জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি বিল পরিশোধের চাপের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২৯ মার্চ) দিনশেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে এই রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংক–এর নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রিজার্ভ কমার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, “মূলত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য পরিশোধের কারণেই রিজার্ভ কমেছে। তবে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ভালো থাকায় চাপ কিছুটা সামাল দেওয়া গেছে।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ১৬ মার্চ রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, যা এখন কমে বর্তমান অবস্থানে এসেছে। বিপিএম-৬ পদ্ধতিতেও একই সময়ে রিজার্ভ কিছুটা কমেছে।
এ ছাড়া নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ (এনআইআর)—যা ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ হিসেবে বিবেচিত—বর্তমানে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি খরচ মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকাকে নিরাপদ ধরা হয়। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশ এখনো তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক, যা আমদানি সক্ষমতা, মুদ্রার স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!