অর্থনীতি

সিটি ব্যাংকের রেকর্ড ১,৩২৪ কোটি টাকা মুনাফা

আপডেট: এপ্রি ১১, ২০২৬ : ০৫:১৬ এএম
সিটি ব্যাংকের রেকর্ড ১,৩২৪ কোটি টাকা মুনাফা

চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ২০২৫ সালে সিটি ব্যাংক তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে। ব্যাংকটির সমন্বিত নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১১০ কোটি টাকা বা ৩১ শতাংশ বেশি।

ব্যাংকটির একক নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা। পাশাপাশি সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আরও ১৮ কোটি টাকা নিট মুনাফা যোগ হয়েছে।

ব্যাংকের এই প্রবৃদ্ধির পেছনে আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা, শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংকটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ঋণ থেকে সুদ আয় ২৪ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছর ছিল ৪ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। একই সঙ্গে সম্পদের গুণগত মানেরও উন্নতি হয়েছে। শ্রেণীকৃত ঋণের হার কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছর ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

অব্যাহত মুদ্রাস্ফীতির চাপের মধ্যেও ব্যাংকটি আমানতের খরচ ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। যদিও আমানত ও তহবিল ব্যয় বেড়েছে, তা সামাল দিতে সরকারি সিকিউরিটিজে কৌশলগত বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে। ফলে ৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার মোট পরিচালন আয়ের মধ্যে এই খাতের অবদান দাঁড়িয়েছে ২৬ শতাংশে। তহবিল ব্যয় সমন্বয়ের পর নিট বিনিয়োগ আয় হয়েছে ১ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা।

২০২৫ সালে দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ট্রেড ব্যবসা করেছে ব্যাংকটি। এর ফলে ট্রেড সার্ভিস থেকে কমিশন ও ফি আয় হয়েছে ৫২৬ কোটি টাকা। পাশাপাশি রিটেইল ব্যাংকিং ও কার্ড ব্যবসা থেকে এসেছে আরও ৪৭১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ফি ও কমিশন আয় দাঁড়িয়েছে ৯৯৭ কোটি টাকা, যা মোট পরিচালন আয়ের ২১ শতাংশ।

ব্যয় দক্ষতাও ব্যাংকটির অন্যতম শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। ৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার আয়ের বিপরীতে মোট ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ১৬০ কোটি টাকা, ফলে আয়-ব্যয় অনুপাত ৪৪ শতাংশে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

ঋণের বিপরীতে প্রভিশন ব্যয় ২০২৫ সালে বেড়ে ৮১৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৬২৮ কোটি টাকা। এর ফলে প্রভিশন কভারেজ অনুপাত বেড়ে ১২৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন বলেন, তুলনামূলক বেশি প্রভিশন ব্যয়ের কারণে নিট মুনাফা আরও বাড়ানো সম্ভব হয়নি। তবে ব্যাংকের সব কোর সেগমেন্ট থেকেই শক্তিশালী আয় এসেছে।

তিনি জানান, রিটেইল ব্যাংকিং ও কার্ড ব্যবসার আয় কর্পোরেট ব্যাংকিংকে ছাড়িয়ে গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। ছোট ব্যবসা, ন্যানো ঋণ, রিটেইল ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড পোর্টফোলিওর মানও সন্তোষজনক।

সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে কর্পোরেট ও মাঝারি খাতের ঋণ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও ব্যাংকটির সামগ্রিক পারফরম্যান্সকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, প্রায় ৮ হাজার কর্মীর একটি বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আয়-ব্যয় অনুপাত ৪৫ শতাংশের নিচে ধরে রাখা একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!