অর্থনীতি

আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি: মতপার্থক্য নিরসনে আলোচনা অব্যাহত, সমাধানের আশা অর্থমন্ত্রীর

আপডেট: এপ্রি ১৯, ২০২৬ : ০৫:০৮ এএম
আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি: মতপার্থক্য নিরসনে আলোচনা অব্যাহত, সমাধানের আশা অর্থমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান ঋণ কর্মসূচি নিয়ে বিদ্যমান মতপার্থক্যগুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকের ফাঁকে সংস্থাটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। বেশ কিছু বিষয়ে ইতোমধ্যে অগ্রগতি হয়েছে, তবে কয়েকটি ইস্যু এখনও আলোচনায় রয়েছে। এসব বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে উভয় পক্ষই কাজ করছে।

ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনই ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আলোচনার পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন হওয়ার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে প্রায় ৩৬৪ কোটি ডলার পাওয়া গেছে। বাকি রয়েছে প্রায় ১৮৬ কোটি ডলার। এর মধ্যে দুই কিস্তির প্রায় ১৩০ কোটি ডলার জুনের আগেই ছাড় হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও অনিশ্চিত।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আইএমএফ ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, একক ভ্যাট হার চালু এবং কর ছাড় কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে দৃশ্যমান অগ্রগতি চেয়েছে। সংস্থাটির শর্ত অনুযায়ী, জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আদায় প্রতিবছর বাড়ানোর লক্ষ্য থাকলেও তা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনও সম্প্রতি জানিয়েছেন, আর্থিক, রাজস্ব ও বিনিময় হার—এই তিন খাতে এখনও সংস্কারের বড় পরিসর রয়েছে। কিস্তি ছাড়ের বিষয়টি আলোচনার মধ্যেই রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও বাজেট সহায়তার জন্য বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা ও আইএফসিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ঋণ পাওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য বর্ধিত ঋণ সহায়তার পরিমাণ ৩০০ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনাও ইতিবাচক হয়েছে বলে জানান তিনি।

ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা নিয়েও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে অর্থপাচারের কারণে সৃষ্ট চাপ মোকাবিলায় পুনঃঅর্থায়নের বিভিন্ন উপায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!