দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে (২৬–৩০ এপ্রিল) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন হয়েছে। এতে এক সপ্তাহে বাজার মূলধন কমেছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে প্রধান মূল্যসূচকও হ্রাস পেয়েছে, যদিও দৈনিক গড় লেনদেন কিছুটা বেড়েছে।
ডিএসইর বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহজুড়ে ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১১৭টির দর বেড়েছে, ২৪৬টির কমেছে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৮৭ পয়েন্টে নেমেছে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৭ পয়েন্টে উঠেছে।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৭১৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় বেশি। গড় দৈনিক লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৯৪৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
এদিকে সপ্তাহ ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ০.৩৫ শতাংশ বা প্রায় ২ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। বর্তমানে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ১১৮ কোটি টাকা।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকগুলোতে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ও সিএসআই যথাক্রমে ০.১৭ শতাংশ ও ০.৯৩ শতাংশ কমেছে। তবে সিএসইর প্রধান মূল্যসূচক সিএসসিএক্স সামান্য বেড়েছে।
সিএসইতে সপ্তাহজুড়ে মোট লেনদেন হয়েছে ১৪৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কম। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩০৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৬টির দর বেড়েছে, ১৭৩টির কমেছে এবং ১৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে সাম্প্রতিক দরপতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক অবস্থান তৈরি করেছে, যদিও লেনদেন কিছুটা বাড়া বাজারে অংশগ্রহণের স্থিতিশীলতা নির্দেশ করে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!