দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগামী দুই মাসে আরও ৫০ হাজার টন অকটেন আমদানির পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। একই সঙ্গে ডিজেল ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানিও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হলে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে মার্চের শুরু থেকে অকটেনের সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি পাননি গ্রাহকেরা।
এই পরিস্থিতিতে সরকার প্রথমে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে। পরে সরবরাহ ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়। পাশাপাশি ফুয়েল পাস চালুসহ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সর্বশেষ জ্বালানির দাম সমন্বয়ের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠানটি ৫৩ হাজার ৩৬৪ টন অকটেন আমদানি করেছে। একই সময়ে কয়েক দফায় ডিজেল, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলও দেশে এসেছে।
বিপিসির আমদানি কার্যক্রম পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এপ্রিলজুড়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অন্তত ১১টি কার্গো দেশে জ্বালানি নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে ডিজেলের পাশাপাশি ৫০ হাজার টনের বেশি অকটেন খালাস করা হয়েছে।
বর্তমানে বিপিসির মজুত রয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার টন ডিজেল, ৪২ হাজার ৯৩৩ টন অকটেন ও ১৭ হাজার ৬৪০ টন পেট্রোল। এ মজুত দিয়ে ডিজেলের চাহিদা ১৫ দিন, অকটেনের ৩৫ দিন এবং পেট্রোলের ১২ দিন পর্যন্ত পূরণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মে মাসে ২৫ হাজার টন এবং জুন মাসে আরও ২৫ হাজার টন অকটেন আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে বিপিসির। একই সঙ্গে দুই মাসে মোট ৬ লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল, ১ লাখ টন জেট ফুয়েল এবং ১ লাখ ৫০ হাজার টন ফার্নেস অয়েল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অপরিশোধিত তেল সংকটে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সীমিত সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়ে এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি ট্যাংকার। ফলে দেশীয় উৎপাদনেও চাপ তৈরি হয়।
তবে বিকল্প পথে নতুন চালান আনার উদ্যোগ নিয়েছে বিপিসি। এরই মধ্যে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। মে ও জুন মাসে আরও দুই লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।
বিপিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী আমদানি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সামনে জ্বালানি তেলের বড় ধরনের সংকট হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!