বিনোদন

সোশ্যাল মিডিয়াকে ডাস্টবিন মনে হয়: জয়া আহসান

আপডেট: ফেব ০৭, ২০২৬ : ০৫:৩৯ এএম ১৭
সোশ্যাল মিডিয়াকে ডাস্টবিন মনে হয়: জয়া আহসান

দুই বাংলার চলচ্চিত্রাঙ্গনে জয়া আহসান এখন পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি নাম। চলতি বছরে পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেতে যাওয়া তাঁর নতুন সিনেমা ‘ওসিডি’ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ছবিটিতে তিনি এক চিকিৎসকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সিনেমাটির মূল বিষয়বস্তু অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার (ওসিডি) ও শিশু যৌন নির্যাতন বা পিডোফিলিয়া।

পরিচালক সৌকর্য ঘোষালের সঙ্গে এটি জয়া আহসানের তৃতীয় কাজ। সম্প্রতি ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিনেমার গল্পের পাশাপাশি সমাজের নানা বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেন তিনি। সিনেমাটি নিয়ে জয়া আহসান বলেন, বাংলা চলচ্চিত্রে এর আগে ওসিডি বা পিডোফিলিয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে এত গুরুত্ব দিয়ে কাজ হয়নি। বিশেষ করে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে সামাজিকভাবে আরও বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

জয়ার ভাষায়, শিশুদের মাধ্যমে যৌন আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা একটি গুরুতর মানসিক ব্যাধি, যার প্রভাব শৈশব ছাড়িয়ে মানুষের পুরো জীবনজুড়ে বহন করতে হয়। এই ধরনের ট্রমা ব্যক্তি ও সমাজ—দুয়ের ওপরই গভীর প্রভাব ফেলে। সাক্ষাৎকারে দুই বাংলার চলচ্চিত্র শিল্প ও পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হন জয়া। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিল্প কখনো বিভাজন তৈরি করে না, বরং মানুষকে যুক্ত করে।

জয়া আহসানের মতে, একজন শিল্পী যদি তাঁর শিল্প নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হন, তাহলে তাঁকে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভেতর ঢুকতে হয় না। তিনি বলেন, ‘আমি বাংলা সিনেমার জন্য কাজ করি। শুধু বাংলাদেশের বাঙালিদের জন্য নয় বা শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়—সারা পৃথিবীতে যত বাঙালি ছড়িয়ে আছেন, তাঁদের সবার কাছেই পৌঁছাতে চাই একজন বাঙালি শিল্পী হিসেবে।’

দুই দেশের কিছু সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া বিদ্বেষ প্রসঙ্গে জয়া মনে করেন, এটি সাময়িক ও ভার্চুয়াল। বাস্তব জীবনের প্রতিফলন নয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতিবাচক মন্তব্য প্রসঙ্গে জয়া আহসান বলেন, ‘গুটিকয়েক মানুষ সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করে বিদ্বেষ ছড়ায়। আমার তো সোশ্যাল মিডিয়াটাকে ডাস্টবিন মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে আমি যে ভালোবাসা পাই—এপারে এসে, ছবি মুক্তির সময়—সেগুলোই সত্যি। এই বিদ্বেষ বাস্তবে দেখা যায় না।’

জয়া মনে করেন, শিল্পী হিসেবে এসব সাময়িক নেতিবাচকতার ঊর্ধ্বে থেকে তিনি সারা বিশ্বের বাঙালিদের জন্য কাজ করে যেতে চান, আর এই ধরনের বিদ্বেষ তাঁর কাজে কোনো প্রভাব ফেলবে না।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!