বিনোদন

অনেক বছর বাঁচতে চেয়েছিলেন মান্না, কিন্তু নিয়তি অন্য কিছু লিখেছিল

আপডেট: ফেব ১৭, ২০২৬ : ০৮:৫২ এএম
অনেক বছর বাঁচতে চেয়েছিলেন মান্না, কিন্তু নিয়তি অন্য কিছু লিখেছিল

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক মান্না আজ ১৮তম প্রয়াণ দিবস পালিত হচ্ছে। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। জীবদ্দশায় এক সাক্ষাৎকারে মান্না বলেছিলেন, “বাঁচার অনেক ইচ্ছা, তবে ভাগ্যে কী আছে জানি না; আরও অনেকদিন বাঁচতে চাই।”

মান্নার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। ঢাকার রাজপথ তখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রিয় নায়কের শেষ বিদায়ে রাস্তায় নেমেছিল লাখো মানুষ। এফডিসি থেকে মরদেহবাহী গাড়ি বের হওয়ার সময় জনতাকে সামলাতে পুলিশকে টিয়ারশেল ছুঁড়তে হয়। দেশের ইতিহাসে কোনো তারকার মৃত্যুতে এমন গণবিস্ফোরণ নজিরবিহীন ছিল।

সেই সময় ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়ার দাপট ছিল না; টেলিভিশন ও বেতারের মাধ্যমে মান্নার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। টেলিভিশনে বাজানো হয়েছিল তার অভিনীত ‘মনের সাথে যুদ্ধ’ সিনেমার গান ‘আসবার কালে আসলাম একা’, যা মান্নারও খুব পছন্দের।

পর্দায় নায়ক হলেও ঘরে ঘরে মান্না ছিলেন প্রিয়জনের সন্তান, ভাই ও আইডল। তিনি অসংখ্য কালজয়ী সিনেমার রূপকার—‘আম্মাজান’, ‘দাঙ্গা’, ‘কষ্ট’—যেখানে তিনি প্রতিটি চরিত্রে দর্শকের মনের মধ্যে স্থান করে নেন।

১৯৬৪ সালে টাঙ্গাইলে জন্ম নেওয়া আসলাম তালুকদার মান্না ১৯৮৪ সালে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন। ১৯৮৫ সালে কাজী হায়াতের ‘পাগলী’ দিয়ে অভিষেক হলেও, ১৯৯২ সালে ‘দাঙ্গা’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেন। পরবর্তী সময়ে ‘তেজি’ (১৯৯৭) এবং ‘**কে আমার বাবা’ (১৯৯৯), ‘আম্মাজান’, ‘লাল বাদশা’—এর মতো সুপারহিট সিনেমা তাকে ঢালিউডের একচেটিয়া নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। প্রযোজক হিসেবেও তিনি সফল; তার প্রতিষ্ঠান থেকে ‘লুটতরাজ’’, ‘স্বামী-স্ত্রীর যুদ্ধ’’, ‘পিতা-মাতার আমানত’ মুক্তি পেয়েছে।

মান্নার প্রয়াণ দিবসে মান্না ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল ও কোরআন খতমের আয়োজন করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন শেলী মান্না বলেন, “সারা দেশের মানুষ মান্নাকে অকুণ্ঠভাবে ভালোবাসত। মৃত্যুবার্ষিকীতে সবার কাছে শুধু দোয়া চাইছি।”

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!