পরিবেশ

কাঠঠোকরা পাখির অজানা কাহিনি

আপডেট: ডিসে ১৩, ২০২৫ : ০৬:৪৬ এএম
কাঠঠোকরা পাখির অজানা কাহিনি

প্রকৃতিতে এমন বহু বিস্ময়কর পাখি আছে, যারা কঠিন কাজও সহজে করে ফেলতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম কাঠঠোকরা। এরা মিনিটে একশর বেশি বার কাঠ ঠোকরাতে সক্ষম, আর দিনে প্রায় ৮–১০ হাজারবার গাছ ঠোকরায়। অবিশ্বাস্য হলেও, এত ঠোকরানোর পরও এদের মস্তিষ্কে কোনো ক্ষতি হয় না।

এর প্রধান কারণ হলো এদের অনন্য জিহ্বা। কাঠঠোকরার জিহ্বা কখনো কখনো ঠোঁটের দ্বিগুণ লম্বা হয় এবং মস্তিষ্কের পেছনের দিকে পেঁচানো থাকে। যখন কাঠঠোকরা ঠোকরায়, তখন জিহ্বা মাথায় সিটবেল্টের মতো কাজ করে, মস্তিষ্কে চাপ কমায়।

কাঠঠোকরা মূলত খাদ্য সংগ্রহের জন্য গাছে ঠোকরায়। এরা গাছের ভেতরের পোকামাকড় খেয়ে গাছের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। বড় করে গাছে ঠোকরানো মানে ঘর বানানো। প্রতি মৌসুমে নতুন ঘর তৈরি করে এবং পুরাতন ঘরগুলোতে অন্য পাখি বসবাস করে।

বাংলাদেশে দেখা যায় বাংলা কাঠঠোকরা, বড় কাঠঠোকরা, মেটেটুপি কাঠঠোকরা, হিমালয়ী কাঠঠোকরা এবং হলদেচন্দি কাঠঠোকরা। এদের বর্ণিল দেহ, লম্বা ও শক্ত ঠোঁট, শক্তপায়ের গঠন এটিকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

শহরের কোলাহলে কাঠঠোকরার ঠোকরানোর শব্দ তেমন শোনা না গেলেও গ্রামাঞ্চলে এরা পরিচিত। তবে গাছের হ্রাসের কারণে এখন এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তাই প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য কাঠঠোকরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি সংরক্ষণে বনায়ন ও পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ জরুরি।

পাখি বাঁচবে, তবেই বাঁচবে প্রকৃতি।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!