দেশে দ্রুত হারে কৃষিজমি কমছে। নতুন বসতভিটা, শিল্প-কলকারখানা, ইটভাটা, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ অন্যান্য অকৃষি কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৬৯ হাজার হেক্টর আবাদি জমি হারাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের আবাদি জমি প্রায় ১ কোটি ৩৭ লাখ হেক্টর কমেছে।
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ‘বাংলাদেশের কৃষিজমি বিলুপ্তির প্রবণতা’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের প্রতি বছর প্রায় ১ শতাংশ হারে কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণের কারণে প্রতিবছর ৩ হাজার হেক্টর জমি হারায়।
পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৮ সালে আবাদি জমি ছিল ১ কোটি ৯০ লাখ ৯৭ হাজার একর, যা ২০১৯ সালে কমে দাঁড়ায় ১ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার একরে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সালে দেশের মোট আবাদযোগ্য জমি ছিল ৭৯ লাখ ৪৬ হাজার হেক্টর, যেখানে মাথাপিছু আবাদি জমি মাত্র ০.৪৪ হেক্টর।
নগরায়ণ, পুকুর খনন, পরিবারভিত্তিক নতুন ভিটা নির্মাণ ও অবকাঠামোর জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে পড়বে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য কৃষিজমি হুমকির মুখে থাকবে।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, পুরনো ভিটায় বহুতল ভবন নির্মাণ ও শূন্য সুদের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদানের মাধ্যমে কৃষিজমি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া, উপজেলাভিত্তিক স্যাটেলাইট শহর ও পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলে নগরায়ণের চাপ কমানো জরুরি। বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করাচ্ছেন, তিন ফসলি জমিতে শিল্প বা আবাসন প্রকল্প বন্ধ করতে হবে, কৃষিপণ্যের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করা উচিত এবং সরকারি খাসজমি চিহ্নিত করে কৃষির আওতায় আনা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ একসময় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও দ্রুত কমে আসা আবাদি জমি, বাড়তে থাকা উৎপাদন খরচ ও নগরায়ণের চাপ এখন সেই অর্জনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় কৃষিজমি ও কৃষক দুটোই বাঁচানো এখন সময়ের দাবি।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!