পরিবেশ

মেঘনার তীরে সূর্যমুখীর হলুদ রাজ্য

আপডেট: ডিসে ২৩, ২০২৫ : ০৬:৪৬ এএম
মেঘনার তীরে সূর্যমুখীর হলুদ রাজ্য

নরসিংদীর নাগরিয়াকান্দি এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে বিস্তৃত সূর্যমুখীর বাগান দর্শনার্থীদের মন জয় করছে। দিগন্তজুড়ে হাওয়ায় দোল খাচ্ছে হাজার হাজার হলুদ সূর্যমুখী, যেন প্রকৃতির এক অপরূপ উপহার।

২০ বিঘা জমির ওপর এই বাগান গড়ে তুলেছেন উদ্যোক্তা তৌহিদুল ইসলাম মাসুম, মাহবুবুর রহমান ও টিটু মিয়া। বাগানে রয়েছে বারি-২, বারি-৩ ও হাইসান জাতের সূর্যমুখী, পাশাপাশি আছে সেলফি বুথ, ওয়াচ টাওয়ার এবং ছাতা নগরীর মতো বিনোদনের আয়োজন।

শিবপুর থেকে আগত সিনথিয়া ইসলাম সুমাইয়া বলেন, “পরীক্ষার কারণে অনেক দিন কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়নি। মেঘনা নদী আর সূর্যমুখী বাগানের দৃশ্য একসঙ্গে উপভোগ করতে পেরে খুব ভালো লাগলো।” কলেজছাত্র জুনায়েদ আহমেদ বলেন, “শহরের যান্ত্রিকতায় প্রকৃতির এমন রূপ সচরাচর দেখা যায় না। বাগানটিকে সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে, সময়টা খুবই ভালো কাটে।”

স্থানীয় বাসিন্দা ফাতেমা বেগম জানান, “নরসিংদীতে সপরিবার সময় কাটানোর জায়গার অভাব। শিশুরা ঘরে বসে বিরক্ত হয়ে যায়। তাই আনন্দ দিতে এখানে আনা হয়।”

বাগানের উদ্যোক্তা তৌহিদুল ইসলাম মাসুম জানান, মূলত তেল উৎপাদনের জন্য সূর্যমুখী চাষ শুরু হলেও দর্শনার্থীদের আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে এটি একটি বিনোদনকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে। এখানে বিয়ের ফটোশুট ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানও করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে থাকার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ আজিজল হক বলেন, চলতি বছর জেলার ছয়টি উপজেলায় প্রায় ১২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও বীজ দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। তেলের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় এবং পর্যটন সম্ভাবনার কারণে চাষিরা সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

মেঘনার তীরের এই বাগান কৃষি ও পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছে।


আরএস

Tags:
সূর্যমুখীর বাগান

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!