ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ৩০–এ বাংলাদেশের তরুণ জলবায়ু নেতারা বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দ্রুত ও ন্যায্য রূপান্তরের মাধ্যমে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত করতে। তাঁদের দাবি—এই লক্ষ্য কোনো পরিসংখ্যান নয়, বরং বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সংলাপ “১.৫°C অ-আলোচনাযোগ্য: দ্রুত ও ন্যায্য রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশি তরুণদের আহ্বান”–এ তরুণ নেতা, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, সরকার ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ব্রাইটার্স, বাংলাদেশ ইউথ ক্লাইমেট কোয়ালিশন (বিওয়াইসিসি), ক্লাইমেট সিটিজেন নেটওয়ার্ক ও বাংলাদেশ ইয়ুথ কপ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক নির্গমনে বাংলাদেশের অবদান নগণ্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি ভোগ করতে হচ্ছে বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে। তাই বড় নির্গমনকারী দেশগুলোকে দ্রুত ডিকার্বোনাইজেশন, সহজপ্রাপ্য জলবায়ু অর্থায়ন এবং ক্ষয়ক্ষতির (Loss & Damage) সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
সেশনের সঞ্চালক ছিলেন ব্রাইটার্সের ফারিহা ঔমি। মূল উপস্থাপনায় ব্রাইটার্সের সাইদুর রহমান সিয়াম নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য, বৈশ্বিক নীতি–ঘাটতি এবং তরুণদের নেতৃত্বে ন্যায্য রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডি’র অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগামী বছর ইআরডি বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করবে এবং সেরা দশজন অংশগ্রহণকারীকে দেওয়া হবে পার্টি ব্যাজ। এতে তরুণদের দক্ষতা বাড়বে এবং জলবায়ু–সংবেদনশীল অর্থনীতি গঠনে তাদের ভূমিকা আরও জোরদার হবে।
ব্রাইটার্সের প্রতিষ্ঠাতা সাইদুর রহমান সিয়াম বলেন, “তরুণদের পক্ষ থেকে আমাদের স্পষ্ট বার্তা—প্যারিস চুক্তির ১.৫°C লক্ষ্য থেকে কপকে সরে যেতে দেওয়া যাবে না। এটিই আমাদের বেঁচে থাকার সীমা, এবং বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকতে হবে।” ইভেন্টটি আয়োজন করে ব্রাইটার্স, বিওয়াইসিসি ও ক্লাইমেট সিটিজেন নেটওয়ার্ক। সহযোগী ছিল ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার, ওএবি ফাউন্ডেশন, ফুটস্টেপ–ইয়ুথনেট গ্লোবাল। কৌশলগত সহায়তায় ছিল অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, ক্যাপস, সচেতন ফাউন্ডেশন ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানের শেষে তরুণ নেতারা যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ভবিষ্যতের কপ সম্মেলনগুলোতে প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় দ্রুত, ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপান্তরের দায় এখনই বিশ্বনেতাদের নিতে হবে।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!