আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য ১ লাখ টন চাল কিনতে চায় পাকিস্তান

আপডেট: নভে ২৪, ২০২৫ : ০৫:৩৯ পিএম ১০
বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য ১ লাখ টন চাল কিনতে চায় পাকিস্তান

বাংলাদেশে রপ্তানির লক্ষ্যে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১ লাখ টন চাল কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে পাকিস্তানের ট্রেডিং করপোরেশন (টিসিপি)। সোমবার এই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে পাকিস্তানি দৈনিক ডন।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক দশকের টানাপোড়েনের পর ২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। এতে বাণিজ্যিক যোগাযোগও বেড়েছে। টিসিপির আহ্বান করা এই দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৮ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১১টা। ২০ নভেম্বর প্রকাশিত দরপত্রের নথি তাদের হাতে এসেছে বলে জানিয়েছে ডন। টিসিপি জানিয়েছে, ১ লাখ টন লম্বা দানার সাদা চাল (আইআরআরআই–৬) কেনা হবে। পরে চাল প্যাকেটজাত করে করাচি বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে রপ্তানি করা হবে। আবেদনকারী কোম্পানি, পার্টনারশিপ বা একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান—সবার কাছ থেকেই আলাদা সিল করা দরপত্র চাওয়া হয়েছে।

দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টন এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ টন পর্যন্ত চাল সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া যাবে। মূল্যপ্রস্তাব জমা দেওয়ার পর ২১ কার্যদিবস পর্যন্ত তা বৈধ থাকবে। চুক্তির ৪৫ দিনের মধ্যে চাল জাহাজীকরণের জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে। শর্তে আরও বলা হয়েছে, চাল অবশ্যই পাকিস্তানে উৎপাদিত সর্বশেষ মৌসুমের ফসল হতে হবে। এতে কোনো দুর্গন্ধ, ছত্রাক, পোকামাকড় কিংবা বিষাক্ত আগাছার বীজ থাকা যাবে না। ব্যবসায়ীদের মতে, এই দরপত্র পাকিস্তানি চালকে বাংলাদেশের আমদানি ব্যবস্থায় যুক্ত করার চলমান প্রচেষ্টার অংশ। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, সম্প্রতি বাংলাদেশ যে চাল আমদানি করেছে, তার কিছু অংশে ভারতীয় চাল থাকতে পারে।

বাংলাদেশও সোমবার আরও একটি চাল আমদানির দরপত্র আহ্বান করেছে। স্থানীয় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে চাল আমদানি করছে সরকার। গেল মাসে নবম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠকে পাকিস্তান বাংলাদেশকে করাচি পোর্টকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেয়।

পাকিস্তানের চাল রপ্তানি কমেছে ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পাকিস্তানের চাল রপ্তানি ২৮ শতাংশ কমেছে। রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ভারতের চাল রপ্তানি পুনরায় শুরু, বাসমতিতে ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য প্রত্যাহার এবং রপ্তানিতে শূন্য শুল্ক নীতি চালের বাজারে চাপ তৈরি করেছে।

তবে মূল্যযুদ্ধে না গিয়ে বাজার ধরে রাখায় ভারতের পুনরায় প্রবেশ পাকিস্তানের বাণিজ্যে বড় ধাক্কা দেয়নি। আবার ২০২৪ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় পাকিস্তানি বাসমতির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পাকিস্তানের মোট বাসমতি রপ্তানির ২৪ শতাংশই গেছে যুক্তরাষ্ট্রে।

সূত্র: ডন


আরএস

Tags:
পাকিস্তান

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!