আন্তর্জাতিক

ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা–ভূমিধস : মৃতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়াল

আপডেট: ডিসে ০৭, ২০২৫ : ০৪:৫২ এএম ১১
ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা–ভূমিধস : মৃতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়াল

একের পর এক ঘূর্ণিঝড় ও টানা বর্ষণের জেরে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও আচেহ প্রদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ৯১৬–তে পৌঁছেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কমপক্ষে ২৭৪ জন। প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকারের বরাত দিয়ে শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আচেহের তামিয়াং জেলার বাসিন্দারা জানান, বন্যার কারণে খাবার, সুপেয় পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দূরবর্তী অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। তামিয়াংয়ের একটি ইসলামি আবাসিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ১৪ বছর বয়সী দিমাস ফিরমানসিয়াহ রয়টার্সকে বলেন, টানা এক সপ্তাহ ধরে তারা হোস্টেলে আটকা পড়েছেন। পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে বন্যার পানি পান করছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ জানান, সহায়তা কেন্দ্র থেকে খাবার ও পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবাও সুবিয়ান্তো কয়েক দিন আগে দাবি করেছিলেন, বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে এবং সরকারের প্রস্তুতি সন্তোষজনক। তবে সুমাত্রা ও আচেহ কর্তৃপক্ষ এই দাবির সঙ্গে একমত নন। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে।

বনউজাড়–অবৈধ খননই কি দায়ী?

স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর অভিযোগ—বন্যা ও ভূমিধসের এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মূল কারণ নির্বিচারে বনউজাড় এবং অবৈধ খননকাজ। তারা চীনের অর্থায়নে পরিচালিত জলবিদ্যুৎ কোম্পানি নর্থ সুমাত্রা হাইড্রো এনার্জি এবং স্বর্ণখনি অনুসন্ধান ও উত্তোলনকারী এগিনকোর্ট রিসোর্সেসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশধ্বংসের অভিযোগ তুলেছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে কোনো কোম্পানিই প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ঘূর্ণিঝড় ‘সেনিয়া’সহ বেশ কয়েকটি মৌসুমি ঝড় ও ভারী বর্ষণের প্রভাবে গত নভেম্বরের শেষ ভাগ থেকে সুমাত্রা ও আচেহ অঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। বন্যার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের ঘটনাও ঘটছে, যা মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স

 

আরএস

Tags:
বন্যা ও ভূমিধস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!