আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনি ও সাত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

আপডেট: ডিসে ১৭, ২০২৫ : ০৫:৩৪ এএম
ফিলিস্তিনি ও সাত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারী এবং আরও সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো—বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান, সিয়েরা লিওন, লাওস ও সিরিয়া।

গতকাল ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় ও জননিরাপত্তাজনিত হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্ক্রিনিং, যাচাই-বাছাই এবং তথ্য আদান–প্রদানের ক্ষেত্রে স্থায়ী ও গুরুতর ঘাটতি থাকায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এর আগে গত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ১৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন–সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। সেসব দেশের মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, মিয়ানমার, বুরুন্ডি, শাদ, কিউবা, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়াটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লাওস, লিবিয়া, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সুদান, টোগো, তুর্কমেনিস্তান, ভেনেজুয়েলা ও ইয়েমেন।

পরে গত ৪ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তত ৩২টি দেশ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বাকি দেশগুলোর নাম সে সময় প্রকাশ করা হয়নি।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যিক রাজধানী সিডনির বন্ডি সমুদ্রসৈকতে বন্দুক হামলায় ১৫ জন ইহুদি নিহত হওয়ার ঘটনার পর ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে—এমন ধারণা আগে থেকেই ছিল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। তবে সিরিয়ার নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ অল্পদিন আগেই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ শারা হোয়াইট হাউসে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। শারার বিরুদ্ধে থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সেই সফরের আগেই প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

তবে সম্প্রতি সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন দোভাষী নিহত হওয়ার ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ওই হামলাকে ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন এবং এর প্রতিক্রিয়ায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে সিরিয়া প্রসঙ্গে বলা হয়, দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা থেকে দেশটি বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। তবে দেশটিতে পাসপোর্ট ও নাগরিক নথিপত্র ইস্যুর জন্য কার্যকর ও শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি যথাযথ স্ক্রিনিং ও যাচাই–বাছাই ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়।

সূত্র: রয়টার্স


আরএস

Tags:
ট্রাম্প

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!