তোশাখানা দুর্নীতি মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পর সমর্থকদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন ইমরান খান। কারাগার থেকেই তিনি এ আহ্বান জানান বলে জানিয়েছে তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।
পিটিআই নেতাদের দাবি, কারাবন্দি ইমরান খান তাঁর আইনজীবী সালমান সাফদারের মাধ্যমে দলের নেতাদের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দেন। পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা আসাদ কায়সার ও মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইমরান খান বলেছেন, ‘যা কিছুই হোক, আমি কারও কাছে কোনো কিছুর জন্য ক্ষমা চাইব না। এ বিষয়ে আমি আমার অবস্থানে অটল থাকব।’
পিটিআই এই রায়কে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে অভিহিত করেছে। দলটির নেতারা বলেন, ইমরান খানের বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর মাধ্যমে বিরোধী কণ্ঠ দমন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শনিবার রাজধানী ইসলামাবাদের অ্যাকাউন্টিবিলিটি কোর্টের বিশেষ বিচারক শাহরুখ আরজুমান্দ এ রায় ঘোষণা করেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া উপহার নিয়ে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে করা তোশাখানা–সংক্রান্ত দুটি মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে এই সাজা দেওয়া হয়।
নিরাপত্তাজনিত কারণে আদিয়ালা কারাগারের ভেতরেই আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। আদালত কারাদণ্ডের পাশাপাশি ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে প্রত্যেককে ১ কোটি ৬৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি করে জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে তোশাখানা সংক্রান্ত আরেক মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন নিম্ন আদালত। তবে পরে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সেই সাজা বাতিল করেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা হারান ইমরান খান। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রায় দেড় বছর পর ২০২৩ সালের আগস্টে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে তাঁকে পাঞ্জাবের অ্যাটক কারাগারে রাখা হলেও পরে তাঁকে আদিয়ালা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
সূত্র: দ্য ন্যাশন
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!