আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন দেলসি রদ্রিগেজ

আপডেট: জানু ০৬, ২০২৬ : ০৫:২৮ এএম
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন দেলসি রদ্রিগেজ

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। সোমবার রাজধানী কারাকাসে জাতীয় পরিষদের এক বিশেষ অধিবেশনে ৫৬ বছর বয়সী দেলসি রদ্রিগেজ শপথ গ্রহণ করেন। শপথ বাক্য পাঠ করান জাতীয় পরিষদের সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ, যিনি তার ভাই।

দেলসি রদ্রিগেজ ২০১৮ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো বর্তমানে মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, মাদুরো ব্যক্তিগতভাবে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং অবৈধভাবে ক্ষমতায় ছিলেন। তাকে বিচারের জন্য নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে। সেখানে জানানো হয়, গত মে মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের ২৮৩ জন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে নির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের মধ্যে খুব কমসংখ্যক বিরোধীদলীয় সদস্য রয়েছেন। এর কারণ হিসেবে জানানো হয়, অধিকাংশ বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করেছিল।

নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত মারিয়া কোরিনা মাচাদোর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। বিরোধী পক্ষের দাবি ছিল, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি।

শপথ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকা একমাত্র আইনপ্রণেতা ছিলেন ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

শপথ গ্রহণের পর দেলসি রদ্রিগেজ মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “অবৈধ সামরিক আগ্রাসনের বেদনা নিয়ে আমি আজ শপথ নিচ্ছি।” একই সঙ্গে তিনি দেশের শান্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন।

এদিন সংসদ ভবনে মাদুরোর ছেলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার বাবা-মায়ের দেশে ফিরে আসার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

এদিকে শপথ অনুষ্ঠান চলাকালে দেলসি রদ্রিগেজ ও নিকোলা মাদুরোর সমর্থনে কয়েক হাজার মানুষ কারাকাসে ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন।

এর আগে শপথ অনুষ্ঠানের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে নিউইয়র্কের একটি আদালতে নিকোলা মাদুরো নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি একজন নিরপরাধ ব্যক্তি। আমি এখনও আমার দেশের প্রেসিডেন্ট।” একই সঙ্গে নিজেকে ‘অপহৃত’ ও ‘যুদ্ধবন্দি’ বলেও দাবি করেন তিনি। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!