আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ

আপডেট: জানু ০৭, ২০২৬ : ০৪:৪৫ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড (Visa Bond) তালিকায় এবার বাংলাদেশের নাম যুক্ত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা পাওয়ার সময় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য জামানত জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভিসা বন্ডের আওতায় থাকা দেশগুলোর হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করেছে। নতুন তালিকায় বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশের নাম রয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আবেদনকারী ভিসার জন্য যোগ্য হলেও কনস্যুলার কর্মকর্তা চাইলে তার ওপর এই বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও সাক্ষাৎকারের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এই পরিমাণ ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার হতে পারে।

কীভাবে জমা দিতে হবে বন্ড

ভিসা বন্ডের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Pay.gov–এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার কর্মকর্তার স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়ার আগে কোনো অর্থ জমা না দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

কেন এই সিদ্ধান্ত

মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এই পাইলট কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করেন—তাদের নিরুৎসাহিত করা। যেসব দেশের নাগরিকদের ওভারস্টের হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কোন ক্ষেত্রে টাকা ফেরত মিলবে

ভিসা বন্ড স্থায়ীভাবে কেটে রাখা হবে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে জামানতের অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে। যেমন—

অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে

ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে

মার্কিন বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে

তবে নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে অথবা দেশটিতে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) কিংবা অন্য কোনো স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করলে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।

নির্দিষ্ট বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ বাধ্যতামূলক

ভিসা বন্ড দেওয়া যাত্রীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হবে। এগুলো হলো—

বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (BOS)

জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নিউইয়র্ক (JFK)

ওয়াশিংটন ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (IAD)

এই নির্ধারিত বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথ ব্যবহার করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।

অন্যান্য দেশ

বাংলাদেশের পাশাপাশি তালিকায় আরও রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডাসহ বেশ কয়েকটি দেশ। দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠতে পারে।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!