আন্তর্জাতিক

বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘রেড লাইন’ টানল ইরানের সেনাবাহিনী

আপডেট: জানু ১০, ২০২৬ : ০১:২০ পিএম
বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘রেড লাইন’ টানল ইরানের সেনাবাহিনী

ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনী ও অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আজ শনিবার পৃথক বিবৃতিতে তারা জানায়, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, গত দুই রাত ধরে কিছু ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর ঘাঁটি দখলের চেষ্টা করেছে। এ সময় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হন এবং বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ধরনের ধারাবাহিক সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তার স্বার্থে আইআরজিসি একটি স্পষ্ট রেড লাইন ঘোষণা করছে। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

পৃথক এক বিবৃতিতে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী জানায়, দেশের জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় তারা সম্পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

অর্থনৈতিক সংকট থেকে বিক্ষোভের সূত্রপাত

দীর্ঘদিন ধরে ইরানের মুদ্রা রিয়েলের মূল্যপতন, চরম মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এরই প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই মূলত বিক্ষোভের সূত্রপাত।

পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে। দিন দিন এর তীব্রতা বাড়তে থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়ে দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

নিরাপত্তা জোরদার, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন

বিক্ষোভ দমাতে রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার। গতকাল সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

মার্কিন সাময়িকী টাইমস-এর তথ্যমতে, চলমান বিক্ষোভের গত ১৩ দিনে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ইরানে দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

এদিকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সরকারকে একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আন্দোলন দমাতে যদি কঠোর সামরিক পন্থা অবলম্বন করা হয়, তবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। এখন পর্যন্ত চারবার এ ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সূত্র: এএফপি

আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!