আন্তর্জাতিক

ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে চীনের জন্মহার

আপডেট: জানু ১৯, ২০২৬ : ০৫:৩৮ এএম ১২
ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে চীনের জন্মহার

চীনের জন্মহার ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে প্রতি এক হাজার জনে জন্মহার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৬৩। এর মধ্য দিয়ে টানা চতুর্থ বছরের মতো কমল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশের মানুষের সংখ্যা—যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো সোমবার এ তথ্য জানায়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রতি এক হাজার জনে জন্মহার ছিল ৬ দশমিক ৩৯। ২০২৪ সালে জন্মহারে সামান্য বাড়ার ইঙ্গিত মিললেও সেটি ছিল সাময়িক। ২০১৬ সালের পর থেকে যে ধারাবাহিক পতন চলছে, তা থামেনি।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে চীনে জন্ম হয়েছে ৭৯ লাখ ২০ হাজার শিশুর। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ১০ হাজার মানুষের। ফলে এক বছরে দেশটির মোট জনসংখ্যা কমেছে প্রায় ৩৩ লাখ ৯০ হাজার। এর ফলে চীনের মোট জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪০ কোটি, যা এখনও ভারতের পর বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

এদিকে একই দিনে প্রকাশিত আরেক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনের অর্থনীতি ৫ শতাংশ হারে বেড়েছে—যা সরকারের নির্ধারিত বার্ষিক লক্ষ্য সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কর্মকর্তারা জানান, দুর্বল অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেও রপ্তানি খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিকে সহায়তা করেছে। গত বছর চীন প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করে।

তবে পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, বছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনীতির গতি কিছুটা মন্থর হয়। ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ২০২২ সালের শেষ প্রান্তিকের পর সর্বনিম্ন।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রধান কাং ই বলেন, বহির্বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তন ও দেশের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও চীনের অর্থনীতি চাপ সামলে স্থিতিশীল অগ্রগতি বজায় রেখেছে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে দেশটি উচ্চমানের উন্নয়নে কিছু নতুন সাফল্য অর্জন করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মহার ও জনসংখ্যা কমার এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে চীনের শ্রমবাজার, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।


আরএস-রাসেল

Tags:
চীনের জন্মহার

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!