জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি সপ্তাহে, অর্থাৎ ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি পবিত্র রমজান শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে দেশভেদে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার ওপর। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ সম্ভাব্য বা নিশ্চিত তারিখ জানিয়েছে।
হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদভিত্তিক হওয়ায় প্রতিটি মাস নতুন চাঁদ দেখার মাধ্যমে শুরু হয়। ফলে অঞ্চলভেদে রমজান শুরুর তারিখে এক দিনের পার্থক্য দেখা যায়।
এবার অধিকাংশ মুসলিম দেশ মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি চাঁদ দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব বলছে, ওই দিন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিস্তৃত অঞ্চলে নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেদিন অনেক স্থানে সূর্যাস্তের আগেই চাঁদ অস্ত যাবে এবং সূর্য–চাঁদের কৌণিক দূরত্ব গ্রহণযোগ্য সীমার নিচে থাকবে। ফলে যেসব দেশ প্রত্যক্ষ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে, তারা শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরুর সম্ভাবনাই বেশি।
আমিরাতে ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। দুবাইয়ের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিজ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, চাঁদ দেখার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রথম দেশ হিসেবে ওমান ১৯ ফেব্রুয়ারিকে রোজার প্রথম দিন হিসেবে নিশ্চিত করেছে। সরকারি হিজরি মাস নির্ধারণ কমিটির ভাষ্য, শাবানের ২৯ তারিখে চাঁদ দেখা সম্ভব না হওয়ায় ৩০ দিন পূর্ণ করা হবে।
তুরস্ক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হবে বলে জানিয়েছে। দেশটির ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি কোথাও চাঁদ দেখার সম্ভাবনা নেই।
সিঙ্গাপুরও ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির ইসলামিক রিলিজিয়াস কাউন্সিল জানিয়েছে, স্থানীয় দৃশ্যমানতার মানদণ্ড অনুযায়ী ওই দিন চাঁদ দৃশ্যমান হবে না।
অস্ট্রেলিয়ান ফতোয়া কাউন্সিল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হবে বলে জানিয়েছে।
পাকিস্তানের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নতুন চাঁদ জন্ম নেবে। ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশটির ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রমজান ২৯ বা ৩০ দিনের হতে পারে। বিভিন্ন পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবার ২৯ দিনের হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
রমজান শেষ হলে শুক্রবার, ২০ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: Gulf News
No comments yet. Be the first to comment!