আন্তর্জাতিক

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে পারবে কি ভারত?

আপডেট: ফেব ১৫, ২০২৬ : ০৫:৫৮ এএম
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে পারবে কি ভারত?

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভূমিধস জয়লাভ করায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে জয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানান। মোদি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্বর্তী বাংলাদেশকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন এবং দুই দেশের বহুমুখী সম্পর্ক জোরদারে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্ক পুনর্গঠন যে সহজ হবে তা নয়। দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসের অভাব, সীমান্ত সমস্যা, পানি ও বাণিজ্য বিরোধ, এবং ভারতের ওপর অভিযোগ—এসবই ইতিহাসে বারবার সম্পর্ককে জটিল করেছে।

লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রফেসর অবিনাশ পালিওয়াল বলেন, “বিএনপি রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ এবং মধ্যপন্থী। ভারতের জন্য বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই নিরাপদ বিকল্প। তবে দেশ শাসনের বাস্তবতায় তা বাস্তবায়ন কতটা সহজ হবে, তা দেখা বাকি।”

ভারতের সঙ্গে বিএনপির অতীত সম্পর্কও জটিল। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি–জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকার সময় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক দ্রুত শীতল হয়ে গিয়েছিল। নিরাপত্তা, অস্ত্র জব্দ এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগের কারণে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রিত থাকা, গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের সংখ্যা, এবং হাসিনার ফেরত না আসা—এসব বিষয়ও নতুন সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সম্পর্ক মূলত নির্ভর করবে—নতুন সরকার কতটা ভারত-বিরোধী মনোভাব কমাতে পারে এবং ভারত কতটা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখতে সক্ষম হয়।

ভারতের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ হলো—বিএনপি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত ও কূটনৈতিক উত্তেজনা কমানো।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!