আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের ‘যুদ্ধ ঘোষণা’, আফগানিস্তানে বিমান হামলা

আপডেট: ফেব ২৭, ২০২৬ : ০৪:২৯ এএম
পাকিস্তানের ‘যুদ্ধ ঘোষণা’, আফগানিস্তানে বিমান হামলা

পাক-আফগান সীমান্তে ডুরান্ড লাইনে সেনাচৌকিতে হামলার জেরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ‘যুদ্ধ’ ঘোষণার কথা জানান। পাকিস্তানের এই সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’।

খাজা আসিফ তাঁর পোস্টে বলেন, “আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন কেবল যুদ্ধই হবে।” এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা শুরু করে পাকিস্তান বিমান বাহিনী (পিএএফ)।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ–এর বিদেশি সংবাদমাধ্যমবিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি আজ শুক্রবার ভোরে এক্সে জানান, রাত পৌনে চারটা থেকে পিএএফ ও স্থলবাহিনী যৌথভাবে এ অভিযান শুরু করে। তাঁর দাবি, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সীমান্তসংলগ্ন ২৭টি সেনাচৌকি ধ্বংস ও ৯টি চৌকি দখলের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

মোশাররফ জাইদির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় আফগান সেনাবাহিনীর দুটি হেডকোয়ার্টার, তিনটি ব্রিগেড সদর, গোলাবারুদের ডিপো, লজিস্টিক ঘাঁটি, একাধিক ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর সদর দপ্তর এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বোমা হামলায় ৮০ জনের বেশি নিহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর— Inter-Services Public Relations (আইএসপিআর)— সে সময় জানায়, নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানকে লক্ষ্য করেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল।

তবে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ দাবি করেন, জঙ্গিঘাঁটি নয়, বেসামরিক এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এর জবাব দেওয়া হবে।

গতকাল রাতে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানের সেনাচৌকিতে হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের দাবি, এতে কয়েকজন সেনা নিহত ও অপহৃত হন। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ এক্সে দেওয়া বার্তায় জানান, তাঁদের বাহিনী নাইট ভিশন ও লেজার–নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করেছে।

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সীমান্তজুড়ে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র: Dawn, NDTV

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!