পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, আফগানিস্তান পাকিস্তানের ডুরান্ড লাইন এলাকায় সেনাচৌকির ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ‘মারাত্মক ভুল’ করেছে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, “রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে কাপুরুষোচিত হামলা আফগানিস্তানের জন্য মারাত্মক ভুল। এজন্য গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কখনও আপোস করব না।”
আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের মদতপুষ্ট তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে নির্মূলের অংশ হিসেবে গত ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিমান বাহিনী নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে অভিযান চালায়। এতে নিহত হন ৮০ জনেরও বেশি। তালেবান সরকার এই হামলায় বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলেছিল।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে আফগান সেনারা ডুরান্ড লাইনে পাক সেনাচৌকির ওপর পাল্টা হামলা চালায়। আফগান সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজ জানায়, সেনাপ্রধান ফাসিহুদ্দিন ফিৎরাতের নির্দেশে রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। হামলায় কয়েকজন পাক সেনা নিহত ও বন্দি হয়।
হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, “আমাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন কেবল যুদ্ধ হবে। আমরা প্রতিবেশী: আপনারা আমাদের মতিগতি ভালোভাবে জানেন।”
পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি শুক্রবার ভোরে জানান, পাকিস্তান বিমান বাহিনী কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে আফগান সেনাবাহিনীর কয়েকটি সেনা হেডকোয়ার্টার, গোলাবারুদের ডিপো, লজিস্টিক ঘাঁটি, ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর হেডকোয়ার্টার, ৮০টিরও বেশি ট্যাংক এবং বিপুল সংখ্যক আর্টিলারি ধ্বংস করেছে। এছাড়া ২৭টি সেনাচৌকি ধ্বংস ও ৯টি দখল করা হয়েছে।
এই উত্তেজনার মধ্যে সীমান্তে দুই দেশের সামরিক পদক্ষেপ তীব্র অবস্থায় রয়েছে।
আরএস-রাসেল

No comments yet. Be the first to comment!