আন্তর্জাতিক

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

আপডেট: মার্চ ০১, ২০২৬ : ০৪:৩২ এএম
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন। 
আজ রোববার (১ মার্চ) সকালে দেশটির সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ–সহ একাধিক সংবাদমাধ্যম খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি এক সম্প্রচারে জানায়, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত ও সংগ্রামী তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খামেনির মৃত্যুতে দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

খবর অনুযায়ী, শনিবার সকালে রাজধানী তেহরানে তাঁর প্রাসাদ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলার কয়েক ঘণ্টা পর রাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনির মৃত্যুর দাবি জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই তথ্য নিশ্চিত করেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রথমদিকে তেহরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য অস্বীকার করে। তবে রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে ইরান সরকার খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে বিবৃতি দেয়।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। সংবিধান অনুযায়ী সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপর তাঁর সরাসরি কর্তৃত্ব ছিল। দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিনির্ধারণেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতেন তিনিই।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইরানে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। সে সময়ের শাহ মুহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি–কে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। বিপ্লবে নেতৃত্ব দেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। তিনি দেশটির প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হন। ১৯৮৯ সালে তাঁর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন আলী খামেনি এবং দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশক সেই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

সূত্র: CNN, Axios।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!