আন্তর্জাতিক

ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে?

আপডেট: মার্চ ০১, ২০২৬ : ০৪:৩৮ এএম
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে?

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে বিশেষজ্ঞদের পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস)। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশ্লেষণে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে পাঁচজন প্রভাবশালী আলেম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের নাম উঠে এসেছে।

মোজতাবা খামেনি

৫৬ বছর বয়সী মোজতাবা খামেনি বর্তমান নেতার দ্বিতীয় পুত্র। ধারণা করা হয়, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং আধাসামরিক বাসিজ বাহিনীর একটি অংশের ওপর তাঁর প্রভাব রয়েছে। তবে ইরানের শিয়া শাসনব্যবস্থায় বংশগত উত্তরাধিকারকে প্রকাশ্যে সমর্থন করা হয় না। পাশাপাশি তিনি উচ্চ পর্যায়ের মারজা বা শীর্ষ আলেম নন এবং রাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক পদেও নেই—এটিও তাঁর পথে বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আলীরেজা আরাফি

৬৭ বছর বয়সী আলীরেজা আরাফি খামেনির আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। তিনি বিশেষজ্ঞদের পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান এবং প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য। গার্ডিয়ান কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই এবং আইন পর্যালোচনার দায়িত্ব পালন করে। আরাফি ইরানের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধানও। তবে সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুব দৃঢ় নয়।

মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি

৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি কট্টরপন্থি আলেম হিসেবে পরিচিত। তিনি রক্ষণশীল ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রভাবশালী এবং পশ্চিমাবিরোধী অবস্থানের জন্য সুপরিচিত। বর্তমানে তিনি কোম শহরের একটি ধর্মীয় বিজ্ঞান একাডেমির নেতৃত্বে আছেন। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, তাঁর কঠোর আদর্শিক অবস্থান তাঁকে একদিকে শক্ত প্রার্থী করতে পারে, আবার অন্যদিকে বিতর্কিতও করে তুলতে পারে।

হাসান খোমেনি

৫০ বছর বয়সী হাসান খোমেনি ইসলামি বিপ্লবের নেতা ও ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি–এর নাতি। বর্তমানে তিনি খোমেনির সমাধিসৌধের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক। প্রশাসনিক বা সামরিক কাঠামোয় তাঁর প্রভাব সীমিত হলেও তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী ভাবমূর্তি তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

হাশেম হোসেইনি বুশেহরি

ষাটোর্ধ্ব হাশেম হোসেইনি বুশেহরি জ্যেষ্ঠ আলেম এবং বিশেষজ্ঞদের পরিষদের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান। খামেনির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে তাঁর প্রভাব কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর মতামতও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে রাজনৈতিক সমঝোতা, ধর্মীয় যোগ্যতা এবং ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ সমীকরণের ওপর।

সূত্র: CNN।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!