ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যেও থেমে নেই তেহরানের আয়। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে দেশটি, যার পুরোটাই আসছে তেল খাত থেকে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর বরাতে এ হিসাব তুলে ধরা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি-তে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল গ্যাস পরিবহন হয়।
সংকটের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক তেল রপ্তানিকারক দেশ উৎপাদন কমাতে বাধ্য হলেও, ইরান বরং সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দেশটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে। এই তেল মূল ভূখণ্ড থেকে খার্গ দ্বীপ হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ইরানের আয়ও বেড়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে একই পরিমাণ তেল বিক্রি করে দৈনিক প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করলেও বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ কোটির কাছাকাছি।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায় করেও আয় করছে তেহরান। এ খাত থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ডলার রাজস্ব আসছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক গ্লোবাল এনার্জি পলিসি-র জ্যেষ্ঠ গবেষক রিচার্ড নেফিউ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের একটি লক্ষ্য ছিল ইরানের তেল খাতকে চাপে ফেলা। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি উল্টো হয়ে দেশটির জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ, এনডিটিভি।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!