আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এক মাসে ৫৯% বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম

আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২৬ : ০৫:৪৩ এএম
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এক মাসে ৫৯% বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ ও তেহরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ জারি করার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, বিশেষ করে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক মাসে রেকর্ড ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা এই বৃদ্ধিকে “অতিপ্রচণ্ড” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো এত কম সময়ে তেলের দাম এমন বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা বলেন, এই উল্লম্ফনের মূল কারণ সরবরাহের অনিয়ম, ঘাটতি নয়।

হরমুজ প্রণালী, যা আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করে, বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিশ্বব্যাপী তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজের ২০ শতাংশ এই রুট ব্যবহার করে। হরমুজ প্রণালীকে “জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা” বলা হয়, কারণ সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করে তাদের তেল রপ্তানি করে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা করেছে, যুদ্ধ চলার সময় মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী এবং তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।

ফলে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ওমানের তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গত এক মাসে এই অঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলোতে ইরান একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, সৌদি আরব বর্তমানে হরমুজ প্রণালির পরিবর্তে ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে তেল রপ্তানি করছে। গত এক সপ্তাহে এই বন্দরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে দৈনিক গড়ে ৪৬ লাখ ৫৮ হাজার ব্যারেল তেল পৌঁছেছে।

জেপি মর্গান-এর বিশ্লেষক নাতাশা কানেভা বলেন, “যুদ্ধের শুরুতে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে ঝুঁকি ছিল—এখন তা লোহিত সাগর ও বাব আল মান্দেব প্রণালি পর্যন্ত বিস্তৃত। এই ঝুঁকি আরও বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজার আরও অস্থিতিশীল হবে।”

সূত্র: রয়টার্স

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!