আন্তর্জাতিক

ইরান দ্বন্দ্বে উত্তেজনা : জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট: মে ০২, ২০২৬ : ০৫:৫১ এএম
ইরান দ্বন্দ্বে উত্তেজনা : জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা ও ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন শুক্রবার এক ঘোষণায় জানায়, প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে এবং এটি ধাপে ধাপে আগামী ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে বলেন, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ ম্যার্ৎসের সাম্প্রতিক মন্তব্য “অনুচিত ও অসহযোগিতাপূর্ণ” ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “এ ধরনের নেতিবাচক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছেন।”

গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে চ্যান্সেলর ম্যার্ৎস বলেন, ইরান ইস্যুতে চলমান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে অপমান করা হয়েছে এবং সংকট থেকে বের হওয়ার কৌশল নিয়ে ওয়াশিংটন অনিশ্চয়তায় রয়েছে—এমন ধারণা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানান, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর জার্মানির অনুরোধে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে জার্মানিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতি যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে।

বর্তমানে জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০টি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা রয়েছে এবং সেখানে মোট প্রায় ৩৫ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে—যা ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্য ও ন্যাটো নীতিগত বিরোধের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল সংকট ঘিরে পশ্চিমা জোটের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হচ্ছে।

এর আগে স্পেন ও ইতালির সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে ওয়াশিংটনের টানাপোড়েন দেখা গেছে। গত মাসে স্পেনের বিরুদ্ধে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার হুমকিও দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি ইউরোপীয় মিত্রদের ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়ানোর অভিযোগও তুলেছে ওয়াশিংটন।

জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর স্পেন ও ইতালি থেকেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে কি না—এমন প্রশ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “সম্ভবত সেটিও হতে পারে।”

সূত্র : রয়টার্স

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!