ইনফ্লুয়েঞ্জা গোত্রের নতুন ধরনের ভাইরাস ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির মতে, ভাইরাসটি দ্রুত রূপ পরিবর্তন করতে সক্ষম হওয়ায় ভবিষ্যতে এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ডব্লিউএইচও সতর্ক করে বলেছে, আগে পরিচিত ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ও বি ভাইরাস থাকলেও নতুন এই ‘ডি’ ধরনটি এখনো তুলনামূলকভাবে অপ্রচলিত এবং এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
গবেষকদের বরাতে জানা গেছে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি মূলত আরএনএভিত্তিক একটি ভাইরাস, যা আগে গবাদি পশুর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমণের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপি এবং জার্মানির ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু পশুপালন শ্রমিকের শরীরে এ ভাইরাসের অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে, যা সম্ভাব্য সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসটি উচ্চ তাপমাত্রাতেও টিকে থাকতে সক্ষম এবং বিভিন্ন পরিবেশে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে, যা এটিকে আরও সংক্রামক করে তুলতে পারে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এটি শরীরের কোষীয় শক্তি উৎপাদন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে, ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। যদিও প্রাথমিক উপসর্গ সাধারণ ফ্লুর মতো, তবে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভাইরাসটি এখনই মহামারি আকারে ছড়িয়ে না পড়লেও সম্ভাব্য ঝুঁকি মাথায় রেখে প্রস্তুতি ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে অবহেলা না করে সতর্কতা ও গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও প্রতিষেধক উন্নয়নের কাজ চলছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!