আন্তর্জাতিক

চমৎকার বাণিজ্য চুক্তি’ হয়েছে বলে দাবি ট্রাম্পের

আপডেট: মে ১৬, ২০২৬ : ০৪:৪২ এএম
চমৎকার বাণিজ্য চুক্তি’ হয়েছে বলে দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping–এর সঙ্গে তাঁর ‘চমৎকার বাণিজ্য চুক্তি’ হয়েছে। শুক্রবার বেইজিংয়ে দুই নেতার শীর্ষ বৈঠকের শেষ দিনের আলোচনার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, বৈঠকে দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক কিছু সমঝোতা হয়েছে। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে চীনের সহযোগিতার আশ্বাসও পাওয়া গেছে।

কৃষি, বিমান চলাচল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্প চীন সফর করছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অন্যান্য ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে ওয়াশিংটন-বেইজিং উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণেও আলোচনা হয়েছে।

বেইজিং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, চীনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কম্পাউন্ড ঝোংনানহাইয়ের বাগানে শির সঙ্গে হাঁটার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা কিছু চমৎকার বাণিজ্য চুক্তি করেছি, যা দুই দেশের জন্যই দারুণ।’

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বৈঠক ‘খুব ভালো’ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবির বিষয়ে শি ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছেন।

ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, শি তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে চীন তেহরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। তিনি আরও বলেন, শি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি বলেছেন, তিনি সামরিক সরঞ্জাম দেবেন না। তিনি খুব জোর দিয়েই এটা বলেছেন।’ তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি এ বিষয়ে কিছু না বললেও শুক্রবার এক বিবৃতিতে ‘সমগ্র ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির’ আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত নৌপথ পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।

বৈঠকের শুরুতে উষ্ণ পরিবেশ থাকলেও তাইওয়ান ইস্যুতে শির সতর্কবার্তা আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করে। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, শি ট্রাম্পকে বলেছেন, তাইওয়ান প্রশ্নে ভুল পদক্ষেপ দুই দেশকে ‘সংঘাতের’ দিকে ঠেলে দিতে পারে।

তবে ট্রাম্প প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি। পরে মার্কিন অর্থমন্ত্রী Scott Bessent জানান, প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে’ কথা বলবেন।

শুক্রবারের আলোচনায় বাণিজ্যই ছিল প্রধান বিষয়। ট্রাম্প দাবি করেন, চীন ‘২০০টি বড়’ Boeing উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে তাঁর এ বক্তব্যের পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর কমে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, চীন আরও বড় অর্ডার দিতে পারে।

ট্রাম্প আরও বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল ও সয়াবিন কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন মার্কিন সয়াবিন আমদানি কমিয়ে ব্রাজিলের দিকে ঝুঁকেছে।

এ ছাড়া দুই দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের জন্য একটি ‘নিয়ন্ত্রণ কাঠামো’ তৈরির বিষয়েও আলোচনা করছে বলে জানান স্কট বেসেন্ট। তাঁর ভাষায়, বিশ্বের ‘দুটি এআই পরাশক্তি’ এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে।

ট্রাম্পের এ সফর প্রায় এক দশকের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। বৈঠকে শি ‘থুসিডাইডিস ফাঁদ’-এর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, উদীয়মান শক্তি ও প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে তাঁর বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সেই ঝুঁকি এড়িয়ে যেতে পারবে।

শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, শি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সম্ভবত একটি পতনশীল জাতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর দাবি, শি বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র নয়, সাবেক প্রেসিডেন্ট Joe Biden–এর আমলের যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে চেয়েছেন।

ট্রাম্প লেখেন, ‘দুই বছর আগে আমরা সত্যিই একটি পতনশীল জাতি ছিলাম। এখন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর সবচেয়ে আলোচিত জাতি।’

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!