জাতীয় সংসদ

গণভোটের প্রচারণায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার আলোচনা

আপডেট: জানু ০৬, ২০২৬ : ০৫:১৭ পিএম
গণভোটের প্রচারণায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার আলোচনা

গণভোটের বিষয়ে জনগণের মধ্যে প্রচারণা চালাতে এবং অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে দেশের মসজিদগুলোর ইমামসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। প্রেস সচিব বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় গণভোটের গুরুত্ব ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিষয়ে জনগণকে কীভাবে উদ্বুদ্ধ করা যায়, সে বিষয়টি নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়সহ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অন্যান্য উপায় নিয়েও মতবিনিময় করা হয়েছে।

তিনি জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০ জন আলেমের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং তাঁদের গণভোটের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। এতে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। পাশাপাশি দেশের ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও প্রায় ৭৭ হাজার মক্তবের শিক্ষক—যাঁদের বড় একটি অংশ ইমাম—তাঁদেরও এ প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, দেশে প্রায় চার লাখ মসজিদ রয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা শহরেই চার হাজারের মতো। এসব মসজিদের ইমামদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান—মন্দির, গির্জা ও উপাসনালয়ের মাধ্যমেও গণভোটের বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে জুলাই সনদ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বৈঠকে ধর্ম উপদেষ্টা, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত করতে হাজার হাজার লিফলেট ছাপানো হচ্ছে, যা সারা দেশে বিতরণ করা হবে।

প্রেস সচিব বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক দেশের একদম প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। সেই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গণভোটের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছানোই লক্ষ্য। সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে এই প্রচারণা চালানো হবে।

তিনি আরও বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গুরুত্ব জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সময় যত গড়াবে, তৃণমূল পর্যায়ে এ বিষয়ে আরও বেশি সচেতনতা তৈরি হবে।

শফিকুল আলম জানান, আগের গণভোটের সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশের সাক্ষরতার হার অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কারণে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও তথ্য পাচ্ছেন। এসব মাধ্যম ব্যবহার করেও গণভোটের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!