সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ৬০টি আসনে ভোট পড়ার হার ৭০ শতাংশের বেশি।
এর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে, যেখানে অংশগ্রহণের হার ৭৮.২৭ শতাংশ। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে ঢাকা-১২ আসনে, যেখানে ভোটার উপস্থিতি মাত্র ৩৭.৪২ শতাংশ।
ইসির তথ্যে দেখা গেছে, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল সবচেয়ে বেশি। ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়া আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে— পঞ্চগড়-১ ও ২; ঠাকুরগাঁও-১, ২ ও ৩; দিনাজপুর-১, ২, ৪, ৫ ও ৬; নীলফামারী-২ ও ৩; লালমনিরহাট-১; জয়পুরহাট-১ ও ২; বগুড়া-২, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭; চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ ও ২; নওগাঁ-১, ২, ৩ ও ৪; রাজশাহী-১, ৩, ৪ ও ৬; নাটোর-১, ২, ৩ ও ৪; সিরাজগঞ্জ-৪; পাবনা-১, ৩ ও ৪; মেহেরপুর-১; কুষ্টিয়া-২, ৩ ও ৪; চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২; ঝিনাইদহ-১, ২, ৩ ও ৪; যশোর-১, ২, ৪, ৫ ও ৬; বাগেরহাট-২ ও ৩; খুলনা-৫; এবং সাতক্ষীরা-১, ২ ও ৩।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৯৯টি আসনে ৪২,৬৫১টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে কমিশন। চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল আইনি জটিলতার কারণে স্থগিত রয়েছে। এছাড়া শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। ওই আসন এবং বগুড়া-৬ আসনে পুনঃভোট ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে।
নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫০টি দল। মোট ২,০২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যার মধ্যে ১,৭৫৫ জন দলীয় ও ২৭৩ জন স্বতন্ত্র। নারী প্রার্থীর মধ্যে মোট ৮৩ জন লড়েছেন, যার মধ্যে ৬৩ জন দলীয় ও ২০ জন স্বতন্ত্র। বিএনপির নারী প্রার্থী ছিলেন ১০ জন। ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে কোনো নারী প্রার্থী ছিল না।
ঘোষিত ২৯৭টি আসনের ফলাফলে বিএনপি ২০৯টি আসনে বিজয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং অন্যান্য (গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বিজেপি ও ইসলামী আন্দোলন) ১টি করে আসন পেয়েছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!