শীতের ঠান্ডা বাতাসে শরীর যেমন দ্রুত ঠান্ডা লাগে, তেমনি বাড়ে শক্তির চাহিদা। এই সময়ে তাই অনেকেই এমন খাবারের দিকে ঝুঁকেন, যা শরীরকে উষ্ণ রাখে এবং পুষ্টি জোগায়। এমনই একটি সহজলভ্য ও পুষ্টিকর খাবার হলো বাদাম। প্রতিদিন বিকেলের নাস্তায় এক মুঠো বাদাম যোগ করলে মিলতে পারে নানা উপকার।
পুষ্টিতে ভরপুর বাদাম: বাদাম প্রোটিন, মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ই এবং রেসভেরাট্রলসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। শরীরে প্রাকৃতিকভাবে উষ্ণতা তৈরি করে বলেই শীতকালে এটি বিশেষভাবে উপকারী।
বাদামে থাকা—
মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও প্রোটিন: শক্তির মাত্রা ধরে রাখে
নিয়াসিন ও ফোলেট: বিপাকক্রিয়া উন্নত করে
আর্জিনিন: রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে
ফাইবার: হজম ভালো রাখে ও ক্ষুধা কমায়
ফলে ভাজা বা চিনিযুক্ত নাশতার চেয়ে বিকেলে বাদাম অনেক স্বাস্থ্যকর বিকল্প।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কমে যায়। এই সময়ে নিয়মিত বাদাম খেলে উপকার মেলে। বাদামে থাকা জিঙ্ক ও ভিটামিন ই শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা ও ত্বকের স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া ধীরে হজম হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী শক্তি দেয় এবং সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়ক, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ত্বক ও চুলের জন্যও উপকারী
শীতে ত্বক শুষ্ক হয়ে ওঠে, চুলও রুক্ষ হয়ে যায়। বাদামের স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ভিটামিন ই ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্রতা জোগায়। প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজারের মতো কাজ করে।
বাদামের বায়োটিন চুলকে মজবুত করে, ভেঙে যাওয়া রোধ করে। প্রতিদিন ২৫–৩০ গ্রাম বাদাম খেলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়তে পারে এবং শীতকালে চুলও থাকে স্বাস্থ্যকর।
কীভাবে খাবেন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ— লবণ ছাড়া বা হালকা ভাজা বাদাম খান। অতিরিক্ত তেল বা সোডিয়ামযুক্ত মসলাযুক্ত বাদাম এড়িয়ে চলুন। ভিজিয়ে রাখা বাদাম বেশি পুষ্টিকর—ভাজার আগে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে পারেন। গুড়ের সঙ্গে মিশিয়ে পিনাট বার বানিয়েও খেতে পারেন; এতে আয়রন ও প্রোটিন একই সঙ্গে পাওয়া যায়।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!