সুস্থতার জন্য ছোট ছোট অভ্যাস অনেক সময় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। রসুন তারই একটি উদাহরণ—হাজার বছর ধরে যেটি ব্যবহার হয়ে আসছে হজমশক্তি বাড়ানো, শরীরকে রোগ প্রতিরোধে সক্ষম করা ও সার্বিক সুস্থতায় সহায়তার জন্য। আধুনিক গবেষণাতেও দেখা গেছে, রসুনে থাকা অ্যালিসিন, প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যকারিতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে একটি কাঁচা রসুনের কোয়া খেলে ধীরে ধীরে যেসব উপকার পাওয়া যেতে পারে—
হজমে সহায়তা
২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, রসুন হজম-এনজাইম সক্রিয় করে পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত রাতে রসুন খেলে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় থাকে, ফলে পরের দিন সকালে গ্যাস বা অম্লতার সমস্যাও কমে আসতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
২০২৩ সালের গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, রসুনে থাকা অ্যালিসিন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে। এতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও প্রদাহ কমানোর ক্ষমতা থাকায় মৌসুমি সংক্রমণের তীব্রতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে ঠান্ডার মৌসুমে রোগ প্রতিরোধে এটি উপকারী হতে পারে।
প্রদাহ কমাতে কার্যকর
২০১৫ সালের গবেষণা অনুযায়ী, রসুনে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী যৌগ শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে। এক মাস নিয়মিত রাতে রসুন খেলে অনেকের ক্ষেত্রে ক্লান্তি কমে আসা, ব্যথা হ্রাস পাওয়া বা শরীরে হালকা অনুভূতির মতো পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
২০১৩ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, রসুন উচ্চ রক্তচাপ কমাতে, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে ও রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে। যেহেতু রাতে শরীর এসব যৌগ প্রক্রিয়াজাত করার জন্য তুলনামূলক বেশি সময় পায়, তাই রাতে রসুন খাওয়ার অভ্যাস হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য কিছুটা বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা
২০২৩ সালের গবেষণা জানায়, রসুন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে হালকা প্রভাব ফেলতে পারে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এটি কোনো চিকিৎসার বিকল্প না হলেও, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত হলে সার্বিকভাবে উপকার দিতে পারে।
রসুনের গন্ধ বা জ্বালাভাব অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পানি দিয়ে গিলে খাওয়া বা অল্প গরম পানির সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে। তবে কোনো বড় অসুস্থতা থাকলে কিংবা ওষুধ সেবন করলে নিয়মিত রসুন খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরএস

No comments yet. Be the first to comment!