ঘুমের আগে এক গ্লাস গরম দুধে প্রাকৃতিক গুড় মেশানো অনেকের ঘরে একটি জনপ্রিয় রীতি। এই সহজ মিশ্রণ কেবল ঐতিহ্যবাহী নয়, বরং স্বাস্থ্যসম্মতও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক মাস ধরে রাতে নিয়মিত দুধ ও গুড় খেলে শরীরে নানা ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
১. উন্নত ঘুমের মান:
গরম দুধে থাকা ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে সহায়ক, যা গভীর এবং শান্ত ঘুম নিশ্চিত করে। আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে যে, ট্রিপটোফ্যান সমৃদ্ধ খাবার ঘুমের মানের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
২. হজমশক্তি বৃদ্ধি ও পেট ফাঁপা কমায়:
গুড় পাচনতন্ত্রকে শিথিল করতে সাহায্য করে এবং উষ্ণ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করে।
৩. প্রাকৃতিক শক্তি ও আয়রন বৃদ্ধি:
গুড়ে কিছু পরিমাণ আয়রন এবং খনিজ থাকে, যা নিয়মিত সেবনে শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। যদিও এটি আয়রনের ঘাটতি দূর করার চিকিৎসা নয়, তবু সতেজ থাকার ক্ষেত্রে সহায়ক।
৪. মানসিক চাপ কমানো ও শান্ত মেজাজ:
উষ্ণ দুধ-গুড় স্নায়ুতন্ত্রকে প্রশমিত করে এবং দুধে থাকা বি ভিটামিন মেজাজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, উষ্ণ পানীয় ভালো ঘুম এবং মানসিক চাপ কমাতে ভূমিকা রাখে।
৫. ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখা:
গুড়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং দুধের প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ও হাইড্রেশন বাড়াতে সহায়ক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত এবং সঠিক মাত্রায় এই মিশ্রণ গ্রহণ করলে স্বাস্থ্য, ঘুম ও ত্বকের সৌন্দর্য উন্নত হতে পারে। তবে এটি চিকিৎসা বা ত্বকের পণ্য হিসেবে প্রতিস্থাপন নয়।
আরএস

No comments yet. Be the first to comment!