ফ্রিজ খাবার সংরক্ষণে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। এতে খাবার দীর্ঘ সময় তাজা থাকে, নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে। তবে সব খাবার ফ্রিজে রাখাই যে ভালো—তা কিন্তু নয়। কিছু খাবার আছে, যেগুলো ফ্রিজে রাখলে স্বাদ, পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়, এমনকি দ্রুত পচেও যেতে পারে। জেনে নিন এমন পাঁচটি খাবারের কথা, যেগুলো ফ্রিজে না রাখাই ভালো—
আলু
আলু দিয়ে নানা ধরনের খাবার তৈরি করা যায়। কিন্তু আলু কখনোই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা উচিত নয়। ঠান্ডা তাপমাত্রায় আলুর স্টার্চ দ্রুত চিনিতে রূপান্তরিত হয়, ফলে রান্নার সময় স্বাদ ও গঠন দুটোই নষ্ট হয়ে যায়। ফ্রিজে রাখলে আলু শক্তও হয়ে যেতে পারে। আলু সংরক্ষণের জন্য রান্নাঘরের শুষ্ক ও ঠান্ডা (কিন্তু ফ্রিজ নয়) জায়গাই সবচেয়ে উপযোগী।
কলা
ফ্রিজের ঠান্ডা কলার জন্য উপযোগী নয়। বরং এতে কলার খোসা দ্রুত কালো হয়ে যায়। কলা কিনলে ঘরের তাপমাত্রায় স্বাভাবিকভাবে পাকতে দিন। এতে স্বাদ ভালো থাকে এবং পুষ্টিগুণও বজায় থাকে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে উপকারী এই ফল ফ্রিজের বাইরে রাখাই ভালো।
তরমুজ
গরমের দিনে ঠান্ডা তরমুজ খেতে ভালো লাগলেও আস্ত তরমুজ ফ্রিজে রাখলে দ্রুত পচে যেতে পারে। কলার মতোই তরমুজ ঘরের তাপমাত্রায় তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ভালো থাকে। আস্ত তরমুজ কিনলে দ্রুত খেয়ে ফেলা ভালো। কেটে ফেললে অবশ্য অল্প সময়ের জন্য ফ্রিজে রাখা যেতে পারে।
পেঁয়াজ
পেঁয়াজ ফ্রিজে রাখলে নরম হয়ে যায় এবং দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। পেঁয়াজের জন্য প্রয়োজন শুষ্ক পরিবেশ ও পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল। আলু ও পেঁয়াজ একসঙ্গে রাখলেও দুটোই দ্রুত নষ্ট হতে পারে। তাই রান্নাঘরের আলাদা, শুকনো জায়গায় পেঁয়াজ সংরক্ষণ করাই উত্তম।
কফি
কফিকে সতেজ রাখতে প্রয়োজন শুষ্ক পরিবেশ। ফ্রিজের ঠান্ডা ও আর্দ্র বাতাস কফির স্বাদ নষ্ট করে এবং আশপাশের খাবারের গন্ধও কফির সঙ্গে মিশে যেতে পারে। তাই কফি ফ্রিজে না রেখে বায়ুরোধী পাত্রে, শুকনো ও ঠান্ডা স্থানে রাখা সবচেয়ে ভালো।
সঠিকভাবে খাবার সংরক্ষণ করলে যেমন স্বাদ বজায় থাকে, তেমনি পুষ্টিগুণও অক্ষুণ্ন থাকে। তাই ফ্রিজ ব্যবহারের আগে জেনে নিন—কোন খাবার ফ্রিজে রাখবেন, আর কোনগুলো রাখবেন না।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!