অন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—ইসুবগুল কি সত্যিই হজমের জন্য উপকারী, নাকি এটি শুধুই প্রচলিত একটি ধারণা?
ইসুবগুল তৈরি হয় প্ল্যান্টাগো ওভাটা নামের একধরনের উদ্ভিদের বীজের বাইরের আবরণ বা ভুসি থেকে। বীজগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বাইরের আবরণ আলাদা করা হয়, যা বাণিজ্যিকভাবে ইসুবগুল বা সাইলিয়াম হস্ক নামে পরিচিত।
ইসুবগুল দেখতে হালকা রঙের, খসখসে ও প্রায় স্বাদহীন। এটি পানিতে দ্রবীভূত না হলেও পানি বা দুধের সংস্পর্শে এলে দ্রুত ফুলে ওঠে এবং জেলের মতো নরম গঠন তৈরি করে। তরল শোষণের এই ক্ষমতাই এর কার্যকারিতার মূল কারণ।
ইসুবগুল প্রায় সম্পূর্ণই খাদ্যতালিকাগত ফাইবার দিয়ে তৈরি, যার বড় অংশই দ্রবণীয় ফাইবার। এতে ক্যালোরি, চর্বি, শর্করা বা প্রোটিনের পরিমাণ খুবই কম। ভিটামিন বা খনিজ উপাদানও উল্লেখযোগ্য নয়।
পুষ্টিবিদদের মতে, ইসুবগুলকে আলাদা কোনো পুষ্টিকর খাবার না বলে বরং একটি ‘কার্যকরী খাদ্য উপাদান’ বলা যায়। অর্থাৎ এটি শরীরে নতুন পুষ্টি যোগ না করলেও হজম প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে পর্যাপ্ত পানি পান করার ওপর।
● মলত্যাগ সহজ করে
ইসুবগুল মলের পরিমাণ ও আর্দ্রতা বাড়ায়, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে।
● মলের স্বাভাবিকতা ধরে রাখে
জেল তৈরির বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি আলগা মলকে শক্ত করতে এবং শক্ত মলকে নরম করতেও সাহায্য করতে পারে।
● কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা
দ্রবণীয় ফাইবার পিত্ত অ্যাসিডের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে রক্তের ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
● রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য
কার্বোহাইড্রেট শোষণের গতি ধীর করে খাবারের পর রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি রোধে সহায়তা করে।
● দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তি দেয়
ফাইবার পানির সঙ্গে ফুলে উঠলে পেটে ভরা অনুভূতি তৈরি করে, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসুবগুল গ্রহণের সময় পর্যাপ্ত পানি না পান করলে উল্টো কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়তে পারে। পাশাপাশি অন্ত্রের জটিল রোগ, অন্ত্রের বাধা বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি নিয়মিত ব্যবহার করা ঠিক নয়।
সঠিক মাত্রায় এবং পর্যাপ্ত তরলের সঙ্গে গ্রহণ করলে ইসুবগুল হজমের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে এটি কোনো জাদুকরি সমাধান নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সক্রিয় জীবনযাপনের বিকল্প হিসেবে ইসুবগুলকে দেখা উচিত নয়—বরং সহায়ক উপাদান হিসেবেই বিবেচনা করা ভালো।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!