লাইফস্টাইল

প্রতিদিন করলার রস পান করলে শরীরে যা ঘটে

আপডেট: জানু ১৮, ২০২৬ : ০৫:১৫ এএম ১২
প্রতিদিন করলার রস পান করলে শরীরে যা ঘটে

তীব্র তিক্ততার কারণে করলার রস অনেকের কাছেই অপছন্দের। তবে ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া প্রতিকারের তালিকায় করলার অবস্থান বেশ পুরোনো, বিশেষ করে বিপাকীয় স্বাস্থ্য রক্ষায়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিন করলার রস পান করার প্রবণতা বাড়লেও এর প্রভাব তাৎক্ষণিক বা নাটকীয় নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবেই এটি ধীরে ধীরে উপকার করে। প্রতিদিন করলার রস পান করলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে, তা তুলে ধরা হলো—

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
করলার রস রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে—এ কারণেই অনেকেই সকালে এটি পান করেন। করলায় থাকা চ্যারান্টিন ও পলিপেপটাইড-পি নামের উপাদান ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে রক্তের শর্করা ভালোভাবে ব্যবহৃত হয় এবং অতিরিক্ত চর্বিতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি কমে। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওজন ব্যবস্থাপনাতেও এটি সহায়ক হতে পারে।

হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যে ভূমিকা
প্রতিদিন করলার রস হজম এনজাইম সক্রিয় করতে সহায়তা করে। এর তিক্ত স্বাদ পাচনতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে, যা পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। করলা ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়ক। তবে খালি পেটে বা অতিরিক্ত পরিমাণে করলার রস পান করলে সংবেদনশীল পাচনতন্ত্রে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক অভ্যাস
কম ক্যালোরি ও বেশি ফাইবারের কারণে করলার রস দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এটি ক্ষুধা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে পারে। তবে করলার রসকে ওজন কমানোর একমাত্র সমাধান না ভেবে স্বাস্থ্যকর রুটিনের একটি অংশ হিসেবে দেখা উচিত।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস
করলায় রয়েছে ভিটামিন সি ও বিভিন্ন পলিফেনল, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত করলার রস পান করলে শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে, ফলে ধীরে ধীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও কোষের সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত হতে পারে।

হরমোন ও বিপাকীয় ভারসাম্য রক্ষা
করলার রস ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে এবং খাবারের পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া এতে প্রদাহবিরোধী গুণ রয়েছে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সহায়তা করে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে। তবে যারা রক্তে শর্করা কমানোর ওষুধ সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে, করলার রস কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। তবে নিয়মিত, পরিমিত ও সচেতনভাবে গ্রহণ করলে এটি সুস্থ জীবনযাপনের একটি কার্যকর সহায়ক অভ্যাস হতে পারে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!