চার বছরের নিচের শিশুদের জন্য দুপুরের ঘুম বাদ দেওয়া মোটেও ছোট বিষয় নয়। নিউরোসায়েন্স গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের ঘুম না হলে শিশুর শরীর ও মস্তিষ্কে ফাইট-অর-ফ্লাইট রেসপন্স সক্রিয় হয়।
শিশু দীর্ঘ সময় জেগে থাকলে শরীর সেটাকে বিপদের সংকেত হিসেবে ধরে। তখন কোর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন নামের স্ট্রেস হরমোন বৃদ্ধি পায়। ফলে শিশু অস্থির, অতিরিক্ত চঞ্চল বা হঠাৎ হাসিখুশি হয়ে ওঠে। পাশাপাশি, মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ক্লান্ত হলেও ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ঘুম না হওয়া শিশু ছোট বিরক্তিতেও বেশি রেগে যায়, আনন্দের মুহূর্তে কম ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং নতুন কিছু শেখার বা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দুপুরের ঘুম শিশুদের জন্য ‘মধ্যবর্তী রিসেট বাটন’—এর অভাব ঘটলে দিনের শেষে ক্লান্তি ভলকানো ইফেক্ট হিসেবে প্রকাশ পায়, যা কান্না, চিৎকার বা টানা টান্ট্রামের মাধ্যমে বের হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শিশুকে “আর একটু জাগিয়ে রাখি” না ভেবে নিয়মিত ঘুমের সময় ধরে রাখা উচিত। কারণ ঘুম কেবল বিশ্রাম নয়, এটি শিশুর মস্তিষ্কের আবেগ, মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা গঠনের সময়।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!