সফেদার গ্লাইসেমিক সূচক মাঝারি মাত্রার—প্রায় ৫৫ থেকে ৬৫। অর্থাৎ একসঙ্গে বেশি পরিমাণ খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে এতে থাকা ফাইবার শর্করাকে ধীরে ধীরে রক্তে মিশতে সাহায্য করে। এ কারণে পরিমিত মাত্রায় খেলে কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতির আশঙ্কা কমে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ডায়াবেটিস রোগীদের সফেদা খালি পেটে না খেয়ে খাবারের পর অল্প কয়েকটি টুকরো মাঝে মাঝে খাওয়া যেতে পারে। যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত, তাদের ক্ষেত্রে সফেদা এড়িয়ে চলাই ভালো।
সফেদা খাওয়ার কিছু উপকারিতাও আছে। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে সীমিত পরিমাণে খেলে ফলটি নানা পুষ্টিগুণ জোগাতে পারে।
হজমে সহায়ক
সফেদায় থাকা ডায়েটারি ফাইবার অন্ত্রের গতি স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এটি হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, ফলে শর্করা ধীরে শোষিত হয়। এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে এবং হজমের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ
জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (এনআইএইচ)–এর তথ্যমতে, সফেদায় পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এসব উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখে। দীর্ঘমেয়াদে তা সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক।
হাড়ের শক্তি বাড়াতে সহায়ক
সফেদায় ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে ও বয়সজনিত দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে
এই ফলে ভিটামিন সিসহ বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট আছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করতে সহায়তা করে। নিয়মিত সুষম খাদ্যের সঙ্গে মাঝে মাঝে সফেদা খাওয়া শরীরকে সংক্রমণ ও পরিবেশগত ক্ষতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে।
ত্বকের স্বাস্থ্যে উপকারী
সফেদায় থাকা ভিটামিন ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এগুলো ত্বককে আর্দ্র রাখতে এবং বয়সের ছাপ দেরিতে দেখা দিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ডায়াবেটিস থাকলে সফেদা খাওয়া যাবে, তবে তা হতে হবে পরিমিত ও সচেতনভাবে। ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে এই ফল খাদ্যতালিকায় রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!