পৃথিবী যত কোলাহলপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা বাড়ছে, ততই শান্ত ও পরিপূর্ণ ঘুম পাওয়া কঠিন হচ্ছে। কিন্তু ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়—এটি একটি জৈবিক প্রয়োজনীয়তা। শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় এবং জীবনের পরবর্তী ধাপ পর্যন্ত ঘুম মস্তিষ্কের বিকাশ, স্মৃতিশক্তি সংরক্ষণ এবং রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বয়স কম হলে ঘুমের প্রয়োজন বেশি হয়। অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দৈনিক ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট। ঘুমের এই সময়ের মধ্যে শরীর ৯০ মিনিটের চক্রে যায় এবং সতেজ থাকার জন্য প্রতিদিন চার থেকে ছয়টি চক্র প্রয়োজন। প্রতিটি চক্রের চারটি ধাপ রয়েছে—
এনআরইএম ১ (হালকা ঘুম): ৫-১০ মিনিট স্থায়ী হয়। মস্তিষ্ক ধীরে কাজ শুরু করে, সহজেই জাগা সম্ভব।
এনআরইএম ২ (হালকা ঘুম): ঘুমের প্রায় ৫০% সময়। হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে যায়, শরীরের তাপমাত্রা কমে। স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের প্রক্রিয়াকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এনআরইএম ৩ (গভীর ঘুম): পুনরুদ্ধারের পর্যায়। পেশী তৈরি, হাড় মেরামত এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পর্যায়ের সময় কমে যায়।
আরইএম ঘুম (স্বপ্নের ঘুম): আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং শেখার জন্য অপরিহার্য। মস্তিষ্ক অত্যন্ত সক্রিয় থাকে, পেশী অস্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয় যাতে স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হয়।
বয়স অনুযায়ী ঘুমের প্রয়োজন:
০-৩ মাস: ১৪-১৭ ঘণ্টা
৪-১২ মাস: ১২-১৬ ঘণ্টা
১-৫ বছর: ১০-১৪ ঘণ্টা
৬-১২ বছর: ৯-১২ ঘণ্টা
১৩-১৮ বছর: ৮-১০ ঘণ্টা
১৯-৬৪ বছর: ৭-৯ ঘণ্টা
৬৫+ বছর: ৭-৯ ঘণ্টা
শিশুদের পর্যাপ্ত ঘুম ভালো মনোযোগ, মানসিক নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সাত ঘণ্টার কম ঘুম ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!