লাইফস্টাইল

ফল-সবজিতে থাকা কীটনাশক কি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়?

আপডেট: মে ০২, ২০২৬ : ০৬:২১ এএম
ফল-সবজিতে থাকা কীটনাশক কি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়?

ফল ও সবজি—স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে যেগুলোর ওপর মানুষের নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি—সেগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ। এতে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে কি না, তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকি পুরোপুরি অস্বীকার করা না গেলেও সঠিক সচেতনতা ও অভ্যাসের মাধ্যমে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের মতে, কীটনাশকের প্রভাব মূলত দুইভাবে দেখা যায়। যারা সরাসরি কৃষিকাজ বা স্প্রে করার মাধ্যমে কীটনাশকের সংস্পর্শে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে লিউকেমিয়া ও লিম্ফোমার মতো ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। অন্যদিকে খাবারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যে অল্প পরিমাণ কীটনাশকের সংস্পর্শে আসেন, তা সাধারণত ক্ষতিকর মাত্রার নিচে থাকে।

চিকিৎসকদের মতে, পুরোনো কিছু কীটনাশক—যেমন ডিডিটি—মাটিতে দীর্ঘদিন থেকে গিয়ে ফসলে মিশে যেত এবং তা হরমোনজনিত সমস্যার মাধ্যমে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারত। তবে এসব রাসায়নিক এখন আর ব্যবহৃত হয় না। বর্তমানে ব্যবহৃত কীটনাশকের প্রভাব তুলনামূলক কম এবং নির্দিষ্ট সময় পর তা ফসল থেকে কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারজাত ও পরিবহনের সময়ের ব্যবধানেও এসব রাসায়নিকের প্রভাব অনেকাংশে কমে আসে। তবুও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে সতর্কতা জরুরি।

কীভাবে কমাবেন কীটনাশকের ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললে কীটনাশকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব—

* চলমান পানিতে ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া, প্রয়োজনে হাত দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করা
* যেসব ফলের খোসায় বেশি অবশিষ্টাংশ থাকে, সেগুলোর খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া
* লবণ পানি বা বেকিং সোডা মিশানো পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখা
* বাঁধাকপি, পালংশাকসহ পাতাজাতীয় সবজি আলাদা করে ধুয়ে নেওয়া
* সম্ভব হলে মৌসুমি ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফল-সবজি খাওয়া
* একই ধরনের খাবার না খেয়ে বৈচিত্র্য বজায় রাখা
* বাড়িতে ছোট পরিসরে সবজি ও শাকসবজি চাষ করা

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, খাবার পুরোপুরি রান্না বা সেদ্ধ করলে অনেক ক্ষেত্রে কিছু রাসায়নিক উপাদান কমে যেতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত পরিষ্কার ও নিরাপদভাবে খাবার প্রস্তুত করা।

সচেতন খাদ্যাভ্যাসই কীটনাশকজনিত সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন তারা।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!