সারাদিন সতেজ ও কর্মক্ষম থাকতে অনেকেই কফি বা মিষ্টিজাতীয় খাবারের ওপর নির্ভর করেন। তবে এতে সাময়িক শক্তি মিললেও পরে ক্লান্তি ফিরে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস শরীরে দীর্ঘস্থায়ী শক্তি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু প্রাকৃতিক খাবার ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে, যা রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং হঠাৎ এনার্জি ক্র্যাশ এড়াতে সাহায্য করে।
এমন পাঁচটি খাবারের কথা তুলে ধরা হলো—
১. বাদাম
বাদামে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন ও ফাইবার শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। এতে রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠানামা কমে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি থাকে। বিশেষজ্ঞরা সকালে ভেজানো বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দেন।
২. খেজুর
প্রাকৃতিক গ্লুকোজসমৃদ্ধ খেজুর দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এতে আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজও রয়েছে। খেজুরের সঙ্গে বাদাম খেলে শক্তির ভারসাম্য আরও ভালোভাবে বজায় থাকে বলে জানান পুষ্টিবিদরা।
৩. ঘি ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট
খাবারে অল্প পরিমাণ ঘি বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট দীর্ঘস্থায়ী শক্তি দিতে পারে। এসব ফ্যাট ধীরে হজম হয়, ফলে শরীরে শক্তি দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতাও উন্নত হয়।
৪. অশ্বগন্ধা
অ্যাডাপ্টোজেনিক এই ভেষজটি মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে, যা পরোক্ষভাবে শরীরের শক্তি স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখে। দুধ বা অন্যান্য তরলের সঙ্গে এটি গ্রহণ করা হলে ভালো ফল পাওয়া যায় বলে ধারণা করা হয়।
৫. সবুজ মুগ ডাল
উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিনসমৃদ্ধ মুগ ডাল সহজপাচ্য এবং দীর্ঘসময় শক্তি সরবরাহ করতে সক্ষম। স্যুপ, ডাল বা সালাদে এটি যোগ করলে দৈনন্দিন শক্তির চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এসব খাবার অন্তর্ভুক্ত করলে সারাদিন কর্মক্ষমতা ও মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয় এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা চিনি নির্ভরতা কমানো সম্ভব।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!