ব্যস্ত জীবনে অনেকেই গোটা ফল খাওয়ার বদলে এক গ্লাস ফলের রস পান করে থাকেন। কিন্তু ডায়াবেটিসের মতো ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠছে—ফলের রস কি নিরাপদ, নাকি এটি লিভারের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফল থেকে রস বের করার সময় তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান—ফাইবার—বাদ পড়ে যায়। ফলে কিছু ভিটামিন ও খনিজ থাকলেও ফলের পুষ্টিগুণের একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। রয়ে যায় মূলত ফ্রুক্টোজ নামের শর্করা, যা অতিরিক্ত মাত্রায় লিভারের জন্য ক্ষতিকর।
ফলের রসে থাকা ফ্রুক্টোজ লিভারে গিয়ে সহজেই চর্বিতে রূপান্তরিত হয়। এতে শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়ে, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। নিয়মিত ফলের রস পান করলে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার আশঙ্কাও বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গোটা ফলের তুলনায় ফলের রসে ফ্রুক্টোজের ঘনত্ব বেশি থাকে এবং এই শর্করা শরীর খুব দ্রুত শোষণ করে নেয়। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ফলের রস পান করলে লিভার অতিরিক্ত শর্করাকে চর্বিতে রূপান্তর করতে বাধ্য হয়। এর ফলে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, মাঝেমধ্যে এক গ্লাস ফলের রস পান করলে সাধারণত বড় কোনো ক্ষতি হয় না—যদি তাতে অতিরিক্ত চিনি না মেশানো হয়। খুব দুর্বল ব্যক্তি কিংবা মাসিকের সময় অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করা নারীদের ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণে ফলের রস উপকারী হতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন ফলের রস খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যসম্মত নয়।
গোটা ফলে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করা শোষণের গতি ধীর করে দেয়। ফলে হঠাৎ করে সুগার লেভেল বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। ফলের রস বানানোর সময় এই ফাইবার বাদ পড়ে যাওয়ায় খুব দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। এ ছাড়া গোটা ফল খেলে পেট ভরে থাকে, কিন্তু ফলের রস সেই তৃপ্তি দেয় না।
গোটা ফলে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট লিভারের কোষকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এসব কারণেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—ফলের রসের চেয়ে গোটা ফলই লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!