জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর মোছাব্বিরের হত্যাকাণ্ড ব্যবসাকেন্দ্রিক হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
আজ রোববার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার পর ডিবির একাধিক দল ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, ভৈরব ও কিশোরগঞ্জে অভিযান চালায়। এসব অভিযানে দুই শুটারের একজন জিন্নাত (২৪), ঘটনার মূল সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল হোসেন এবং ঘটনার পর আসামিদের পালাতে সহযোগিতাকারী আব্দুল কাদিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের আগে ঘটনাস্থলে রেকি করতে সহযোগিতাকারী মো. রিয়াজ (৩২) নামের আরেকজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তি একটি রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন। এ কারণে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ ও এর পেছনে কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি ব্যবসাসংক্রান্ত বিরোধ থেকে ঘটতে পারে। তবে অন্য কোনো কারণ বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের কারও কারও কারওয়ান বাজারে ব্যবসা রয়েছে এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাঁদের ওঠাবসা ছিল।
এ ঘটনায় রহিম নামের আরেক শুটার এখনো পলাতক বলে জানান ডিবির এই কর্মকর্তা।
হত্যাকাণ্ডে বিদেশ থেকে অর্থ আসার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে। সম্প্রতি মোছাব্বির চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে একটি মানববন্ধন করেছিলেন। ওই ঘটনার সঙ্গে এই হত্যার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!