মতামত | মো: সিদ্দিকুর রহমান
গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে মানুষের ভোটাধিকার। এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলো ঘুরে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পেরে আনন্দিত। ভোটের পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল। সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ সারি চোখে পড়েছে।
ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কথা হয় যশোর থেকে গাজীপুরে আসা এক নারী ভোটারের সঙ্গে। দূরপাল্লার পথ পাড়ি দিয়ে কেন তিনি ভোট দিতে এসেছেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,
“ভোটের পরিবেশ সুন্দর। বিগত সময়ে কেন্দ্র আসলে দেখা যেত আমার ভোট হয়ে গেছে। কিন্তু এবার নির্ভয়ে নিজের ভোট দিতে পেরে আমি আনন্দিত।”
তার কথায় ফুটে ওঠে একজন সাধারণ নাগরিকের প্রত্যাশা—নিজের ভোট নিজে দেওয়ার অধিকার। গণতন্ত্রের এই মৌলিক চর্চা যখন বাস্তবে রূপ নেয়, তখনই মানুষের মুখে হাসি ফোটে।
আরও একজন ভোটারের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান,
“বিগত বছরে ভোট দিতে আসলে জোরপূর্বক আমাকে ভোট দিতে বাধ্য করা হতো। এবার ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠ থাকায় নিজের পছন্দের মার্কায় ভোট দিতে পেরে আমি আনন্দিত।”
এ ধরনের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত। অধিকাংশ ভোটারের উপস্থিতি কেন্দ্রগুলোকে উৎসবের রূপ দিয়েছে। নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণ—সবাই অংশ নিয়েছেন উৎসাহের সঙ্গে।
নির্বাচন সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হচ্ছে—এমনটাই মত অধিকাংশ ভোটারের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ও প্রশাসনিক তৎপরতায় ভোটের পরিবেশ ছিল নিয়ন্ত্রিত ও শান্তিপূর্ণ। ভোটারদের মুখে হাসি, আত্মবিশ্বাস এবং স্বস্তির ছাপ স্পষ্ট।
গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এখানেই—যখন একজন নাগরিক নির্ভয়ে নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন। এবারের নির্বাচন সেই আস্থার জায়গাকে আরও দৃঢ় করেছে বলেই মনে করছেন অনেকেই। ভোট শুধুই একটি অধিকার নয়; এটি নাগরিকের সম্মান ও স্বাধীনতার প্রতীক।
No comments yet. Be the first to comment!