নাগরিকের কথা ডেস্ক

নতুন ব্ল অ্যাকশন ফান্ড প্রকল্প উদ্বোধন: বাংলাদেশের জন্য “সুস্থ সাগর’’ নিশ্চিতকরণে সকলকে একসাথে কাজ করার তাগিদ

আপডেট: ডিসে ০৮, ২০২৫ : ০১:৫৬ পিএম ২২
নতুন ব্ল অ্যাকশন ফান্ড প্রকল্প উদ্বোধন: বাংলাদেশের জন্য “সুস্থ সাগর’’ নিশ্চিতকরণে সকলকে একসাথে কাজ করার তাগিদ

মঈন মাহমুদ

ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি (ডাব্লিউসিএস) বাংলাদেশ ও ওয়ার্ল্ডফিশের উদ্যোগে আজ ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে, মৎস্য ও বন অধিদপ্তরের সহযোগিতামূলক সুস্থ সাগর প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা, ফরিদা আখতার। বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক, মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাব্লিউসিএস বাংলাদেশেরকান্ট্রি ডিরেক্টরড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভড ফারুক-উল ইসলাম, , মৎস্য অধিদপ্তরের ড. মো. আব্দুর রউফ, মহাপরিচালক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামুদ্রিক বিষয়ক ইউনিটের অতিরিক্ত সচিব-কমোডর শেখ মাহমুদুল হাসান, (এইচ), ওএসপি, এনপিপি, এওডব্লিওসি, পিএসসি, বিএন (অবঃ), পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব (ইন-চার্জ), অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন,“শুধু ডাব্লিউসিএস বাংলাদেশ নয় সুস্থ সাগর প্রকল্প আমাদের সবার, এখানে মৎস্য অধিদপ্তর, বনঅধিদপ্তরসহ সকলে মিলে একসাথে কাজ করতে হবে, কোস্টগার্ডকে জোরালো ভুমিকা রাখতে হবে। কাজ করার সময় স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ রাখতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সাগরে অবৈধ, নিয়ন্ত্রণহীন ও অনিয়মিত মাছ ধরা একটি বড় সমস্যা। অবৈধ মাছ ধরার জাল ও পদ্ধতিগুলো সমুদ্রের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিভিন্ন অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে প্রচুর পোনা মাছ মারা যাচ্ছে যা মাছের প্রাচুর্যতা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে যেন সবাই বৈধ অনুমতি, বৈধ জাল এবং নৈতিক মাছ ধরার নিয়মগুলো মেনে চলি— তাহলেই আমাদের সমুদ্র সুস্থ থাকবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ সাগর ও সমৃদ্ধ সম্প্রদায় নিশ্চিত করতে এই সহযোগিতা ও যৌথ দায়িত্ব অব্যাহত রাখতে হবে।”

ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,“সুস্থ সাগর প্রকল্পটি ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড ও ‘নিঝুম দ্বীপএমপিএ-এর ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করবে এবং একটি নতুন OECM (Other Effective Area-based Conservation Measures) প্রতিষ্ঠা করবে। গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের হুমকিসমূহ মোকাবিলায় স্থানীয় কমিউনিটিকে সাথে নিয়ে এমপিএ ও OECM মনিটরিংয়ে সরকারকে সরাসরি সহযোগিতা করবে। একইসাথে এসবকাজে অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।
ড. ফারুক-উল ইসলাম বলেন,“এই প্রকল্পে আমাদের লক্ষ্য হলো স্থানীয় সম্প্রদায়কে তাদের সামুদ্রিক সম্পদের সক্রিয় অভিভাবক হিসেবে ক্ষমতায়ন করা। বহুমুখী ও স্থিতিশীল জীবিকা গড়ে তুলে আমরা এমন একটি ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে চাই যেখানে মানুষ ও প্রকৃতি উভয়ই সমৃদ্ধ হবে। ডাব্লিউসিএস বাংলাদেশ ও ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব সমন্বিত সাগর ব্যবস্থাপনার একটি শক্তিশালী মডেল হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

ড. মো. আব্দুর রউফ বলেন,“মৎস্য আমাদের জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গোপসাগরে উৎপাদনশীল মৎস্য ধরে রাখতে হলে এমপিএগুলোকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হবে, যাতে এগুলো মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ খাদ্য ও প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করতে পারে।”
কমোডর শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন,“সুস্থ সাগর প্রকল্পের সফলতা আমাদের সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের হুমকি মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রাখা অত্যন্ত জরুরী, যাতে সকল প্রকার সামুদ্রিক, অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও আবাসস্থলকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। এক্ষেত্রে আমাদের সমন্বিত সামুাদ্রিক ব্যবস্থাপনা (Integrated Ocean management) কার্যক্রম গ্রহনের জন্য সরকারি পর্যায়ে যথাযথ বিধি প্রণয়ণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ বলেন,“সুস্থ সাগর প্রকল্পের মাধ্যমে এমপিএ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন দপ্তর ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ন দিক। এই প্রকল্প সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের সমুদ্র, সামু্দ্রিক বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষন এবং সর্বোপরি উপকুলীয় সম্প্রদায়ের টেকসই জীবনযাত্রা নিশ্চিতকল্পে প্রনিধানযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে” অনুষ্ঠানের সভাপতি মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন,“এধরনের উদ্যোগের জন্য আমরা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করছি। আমরা বৈশ্বিক সংরক্ষণ লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, তবে শুধুমাত্র এমপিএ ঘোষণাই যথেষ্ট নয়। টেকসই সহযোগিতা, দৃঢ় প্রতিশ্রুতি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই আমরা ভবিষ্যতের জন্য বিপন্ন সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও এদের আবাসস্থল রক্ষা করতে পারবো।”

ব্ল অ্যাকশন ফান্ড -এর আর্থিক সহায়তায় এই সুস্থ সাগর প্রকল্পটি ডাব্লিউসিএস বাংলাদেশের নেতৃত্বে ওয়ার্ল্ডফিশকে সাথে নিয়ে পরিচালিত হবে। এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক আবাসস্থলগুলোর পরিবেশগত সুরক্ষার প্রতিনিধিত্বকারী সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকাসমূহে কার্যকর ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত এলাকাসমূহের নেটওয়ার্ক ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে অন্যান্য এলাকা-ভিত্তিক কার্যকর সংরক্ষন ব্যবস্থা বা OECM -কে শক্তিশালী করবে। প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো বৈশ্বিকভাবে বিপন্ন সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণ, মৎস্য সম্পদের টেকসই আহরণ নিশ্চিত এবং উপকূলীয় জীবিকা, বিশেষ করে ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের জীবিকা টেকসই করা।

 

 

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!