ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে, "দাদাগিরি" বা "বিগ ব্রাদার" সুলভ মানসিকতাকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে "সার্বভৌম ভ্রাতৃত্বের" (Sovereign Brotherhood) আদর্শকে গ্রহণ করার সময় এসেছে।
গত ২ জানুয়ারি এএনআই (ANI)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. জয়শঙ্কর কূটনীতিতে "কমন সেন্স" বা সাধারণ বিবেচনাবোধের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক পারস্পরিক সদিচ্ছা এবং বিনিময়ের ওপর নির্ভরশীল। আমরা এই বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বাগত জানাই। তবে, এই "কমন সেন্স" তখনই কার্যকর হবে যখন সম্পর্কটি হবে দুটি সমান ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমান্তরাল অংশীদারিত্ব—কোনো উচ্চ-নিচ ক্রমবিন্যাস নয়।
সার্বভৌম ভ্রাতৃত্বের মূল ভিত্তি:
১. প্রভুত্বের পরিবর্তে সমমর্যাদা: আমরা এমন একটি প্রতিবেশীসুলভ বন্ধন চাই যেখানে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান হবে সর্বোচ্চ। একতরফা প্রভাব বিস্তারের দিন শেষ; এখন পারস্পরিক শ্রদ্ধার যুগ শুরু হয়েছে।
২. পারস্পরিক বিনিময়ের অধিকার: ড. জয়শঙ্কর যেমনটি উল্লেখ করেছেন—পানি বণ্টন, বিদ্যুৎ গ্রিড এবং বাণিজ্যের মতো সুবিধাগুলো সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ফসল। আমরা বিশ্বাস করি, এগুলো কোনো করুণা নয়, বরং দুই ভাইয়ের মধ্যে আইনি অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।
৩. মর্যাদার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা: একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই স্থিতিশীলতা তখনই স্থায়ী হবে যখন আমাদের গণতান্ত্রিক পছন্দ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই গৃহীত হবে।
আমরা কেবল প্রতিবেশী নই, আমরা সাংস্কৃতিক সহোদর। কিন্তু শান্তি বজায় রাখার জন্য ভাইদের মধ্যেও একে অপরের সীমানা ও মর্যাদাকে সম্মান করতে হয়। আসুন আমরা আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধির জোয়ারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে "সার্বভৌম ভাই" হিসেবে এগিয়ে যাই।
মোঃ গোলাম মোস্তফা
অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
সম্পাদক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক, গণফোরাম
আইন সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন
সাবেক পরিচালক, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
No comments yet. Be the first to comment!