NEIR (National Equipment Identity Register) সিস্টেম চালুর উদ্যোগকে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ, সামাজিক অরক্ষনা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোবাইল ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকার যে NEIR সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে, তা কেবল একটি প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এর ফলে মোবাইল ব্যবসা খাতের সঙ্গে জড়িত লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে এবং দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বক্তারা বলেন, এই খাতের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার মানুষ রাতারাতি বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি হলে সামাজিক অবক্ষয়, অপরাধপ্রবণতা ও পারিবারিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়বে বলে তারা দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, অনেক মোবাইল ব্যবসায়ী এনজিও ও বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। NEIR বাস্তবায়নের ফলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে তারা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়বেন এবং এর দায় সরকারের ওপর বর্তাবে বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গুটিকয়েক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের অতিমুনাফার স্বার্থে এই সিস্টেম চালুর চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান বক্তারা।
ডি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তাদের মতে, এই প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় ফোন হারানো বা চুরির ক্ষেত্রে সাধারণ ভোক্তারা আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন এবং চোরাই ফোন পাচারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
প্রযুক্তিগত দিক উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, বর্তমানে সিম কার্ড ও আইএমইআই সংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নতুন করে NEIR সিস্টেম চালুর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে NEIR সিস্টেম বাতিলের দাবি জানানো হয়। দাবি মানা না হলে মোবাইল ব্যবসায়ী, ছাত্রসমাজ ও সাধারণ ভোক্তাদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!