জাতীয়

প্রাণিসম্পদ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

আপডেট: নভে ২৬, ২০২৫ : ০৫:০৫ পিএম
প্রাণিসম্পদ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি

দেশের অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, উৎপাদন থেকে বিপণন—সব ধাপেই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেই প্রাণিসম্পদ খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান। ড. ইউনূস বলেন, স্বল্প পুঁজিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, বাণিজ্যিক খামার সম্প্রসারণ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও অপুষ্টি দূরীকরণে প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বেসরকারি বিনিয়োগ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উৎপাদনমুখী প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ডিম, দুধ ও মাংস উৎপাদন বেড়েছে।

তবে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাণিজ খাদ্যের অপ্রতুলতা, এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, প্রাণিজ উপজাত ব্যবস্থাপনা, প্রাণী-মানুষ সংক্রমণ রোগ নিয়ন্ত্রণ—এসবই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে নতুন প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে কৃষি-অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ও সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “দুধ, ডিম, মাংসের দাম সামান্য বাড়লেই সমালোচনা হয়, কিন্তু উৎপাদকদের গল্প সামনে আসে না।” বিদেশি দুধ আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে স্থানীয় খামারিদের কাছ থেকে সংগ্রহ বৃদ্ধি জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বড় খামারের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় নজরদারি আরও বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে নিয়মকানুন কঠোরভাবে মানতে হবে। বর্তমানে নিবন্ধিত ৮৫ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক খামার ও প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার পোল্ট্রি খামারে প্রতিদিন ৬ কোটির বেশি ডিম উৎপাদিত হচ্ছে—যা দেশীয় উদ্যোক্তাদেরই অবদান বলে উল্লেখ করেন তিনি। সভাপতির বক্তব্যে ফরিদা আখতার বলেন, প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ এবারই প্রথম জাতীয় পর্যায়ে বড় আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে। এ বছর প্রতিপাদ্য—“দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি: প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি।”

তিনি বলেন, গ্রামীণ নারীর শ্রমে পালনকৃত দেশীয় জাতের গবাদিপশু রোগপ্রতিরোধী ও কম খরচে বাঁচে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মধ্যেও এসব জাত টিকে থাকার ক্ষমতা বেশি এবং কম মিথেন নিঃসরণ করে—তাই সংরক্ষণে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। রমজানে স্বল্প মূল্যে প্রাণিজ আমিষ সরবরাহের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

 

আরএস

Tags:
প্রধান উপদেষ্টা

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!